ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের ভেতরের পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে জাপানে তৈরি ক্ষুদ্রাকৃতির ড্রোন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজে এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।
উদ্ধারকাজে অংশ নেয় জাপানি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লিবারঅ্যাওয়ার। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হংকিউ মিন জানান, গত ২৮ জুলাই কুমামোতো প্রিফেকচারে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার খবর পাওয়ার পরদিনই তিনি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দুর্যোগকবলিত কাশিমা শহরে পৌঁছান।
সেখানে বিস্ফোরণে একটি শপিং মলের বড় অংশ ধসে পড়েছিল। ধ্বংসস্তূপের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হয় লিবারঅ্যাওয়ারের তৈরি আইবিআইএস২ ড্রোন।
মাত্র ২৪৩ গ্রাম ওজন
আইবিআইএস২ আকারে বেশ ছোট। প্রায় ২০ সেন্টিমিটার জায়গার মধ্যে এটি রাখা যায় এবং এর ওজন মাত্র ২৪৩ গ্রাম। সরু, অন্ধকার ও ধুলাবালিতে ভরা জায়গা পরিদর্শনের জন্য ড্রোনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নর্দমা কিংবা ভূগর্ভস্থ স্থাপনার মতো সংকীর্ণ জায়গাতেও এটি কাজ করতে পারে। এমনকি জিপিএস সংকেত না থাকলেও ড্রোনটি পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।
ভূমিকম্প থেকেই বদলে যায় ভাবনা
ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে হংকিউ মিনের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিকস নিয়ে পড়াশোনা করা মিনের চিন্তায় ২০১১ সালের জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি বড় প্রভাব ফেলে।
সে সময় চিবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেনজো নোনামির অধীনে কাজ করেন তিনি। জাপানের ড্রোন গবেষণায় পরিচিত এই অধ্যাপকের সঙ্গে কাজ করার সময় ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন তৈরির কাজেও যুক্ত হন মিন।
ফুকুশিমা কেন্দ্রের ভেতরে জিপিএস সংকেত পাওয়া যেত না। ফলে ড্রোনকে নিজস্ব অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণের কাজও করতে হতো। এসব প্রযুক্তি যুক্ত করতে গিয়ে ড্রোনগুলো ধীরে ধীরে বড় ও ভারী হয়ে উঠছিল।
মিনের উপলব্ধি ছিল, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বড় ড্রোন পরিচালনা করা কঠিন। দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ছোট ও হালকা ড্রোন তৈরির দিকে মনোযোগ দেন তিনি।
এরপর ২০১৬ সালে লিবারঅ্যাওয়ার প্রতিষ্ঠা করেন মিন।
প্রযুক্তির পাশাপাশি সমন্বয়ও জরুরি
এর আগে ২০২৪ সালে জাপানের নোতো উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল লিবারঅ্যাওয়ার। তবে তখন প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মিন।
তাঁর মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু উন্নত প্রযুক্তি থাকলেই যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ে কাজ করা উদ্ধারকারী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ও জরুরি।
কুমামোতোতে ক্ষুদ্র ড্রোনের ব্যবহার তাই শুধু একটি উদ্ধার অভিযানেই প্রযুক্তির প্রয়োগ নয়, বরং সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ছোট আকারের ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও সামনে এনেছে। পাশাপাশি চীনা নির্মাতাদের প্রাধান্য থাকা বৈশ্বিক ড্রোন বাজারে জাপানি প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।






















