কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর মতে, এআইয়ের বিকাশের গতি এতটাই দ্রুত হচ্ছে যে সরকার ও প্রযুক্তি খাতের প্রস্তুতির আগেই চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
সেমাফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, এআই ইতোমধ্যে জীববিজ্ঞান, সাইবার নিরাপত্তা, অফিসভিত্তিক কাজ এবং মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব বিষয়ে এখনই গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এআইয়ের অগ্রগতির গতি এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও প্রযুক্তি খাতের নেতাদের প্রস্তুতির ঘাটতি তাঁকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান গেটস।
তিনি বলেন, ‘আমি এমন অবস্থায় আছি যে, হয়তো আমিই প্রথম বলছি—এটা পাগলামি, এটা উন্মাদনা। চারপাশের নীরবতা আমাকে হতবাক করছে।’
বুধবার প্রকাশিত নিজের একটি ব্লগ পোস্টেও এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান গেটস। কর্মীদের সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এআই ব্যবহারের মাত্রার ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর ওপর কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।
কমতে পারে চাকরির সুযোগ
গেটসের আশঙ্কা, এআইয়ের ব্যবহার যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে অর্থনীতিতে আগের তুলনায় অনেক কম চাকরির প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে প্রযুক্তিটির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এআইয়ের সম্ভাবনাময় ব্যবহারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
জীববিজ্ঞানেও এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গেটস। ভবিষ্যতে এআইয়ের কারণে জৈব সন্ত্রাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রযুক্তি খাতেও উদ্বেগ
এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতাও ব্যক্তিগতভাবে একমত বলে জানিয়েছেন গেটস। মাইক্রোসফটের এআই বিভাগের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা সুলেইমানসহ কয়েকজন প্রযুক্তিবিদ মনে করেন, এআইয়ের পরিবর্তনের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজ ও সরকার এখনও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি।
গুগল ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেমিস হাসাবিসও শক্তিশালী এআই মডেলের ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড ও তদারকির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, নতুন ও অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এআই মডেল বাজারে ছাড়ার আগে স্বাধীন বা সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা কোনো সংস্থার মাধ্যমে সেগুলোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা উচিত।
তবে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে প্রযুক্তি খাতে ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেকের মতে, অতীতের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো এআই কিছু প্রচলিত চাকরি কমিয়ে দিলেও একই সঙ্গে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
তবে এআইয়ের পরিবর্তনের গতি আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর তুলনায় এতটাই বেশি কি না যে সরকার ও সমাজ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হবে—বিল গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই প্রশ্নই আবার সামনে এসেছে।





















