দীর্ঘ ১৫ বছর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়লেন টিম কুক। তবে শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে থাকছেন তিনি। অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে বোর্ডে দায়িত্ব পালন করবেন ৬৫ বছর বয়সী এই প্রযুক্তি নির্বাহী।
টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জন টার্নাস। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সিইও হিসেবে শেষ কর্মদিবসে অ্যাপলের কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বিদায়ী বার্তায় নিজের ১৫ বছরের নেতৃত্বের সময়কে জীবনের অন্যতম বড় সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন কুক।
তিনি লিখেছেন, “এমন একটি মুহূর্ত যে একদিন আসবে, তা আমি সবসময়ই জানতাম। তারপরও দিনটি যখন সত্যিই এল এবং আমি এখন এসব কথা লিখছি, বিষয়টি বিশ্বাস করাও আমার জন্য কঠিন।”
অ্যাপল ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়ে কুক বলেন, নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া এবং কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
“আমি অ্যাপল ও এর পুরো দলকে গভীরভাবে ভালোবাসি। আপনারা আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, প্রতিদিন কাজের প্রতি যে নিষ্ঠা ধরে রেখেছেন এবং আপনাদের নেতা হিসেবে কাজ করার যে বিরল সুযোগ আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে আজকের দিনটি শেষ করতে পারছি না,” বলেন তিনি।
সিইও পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তিতে থাকলেও দায়িত্বটি তিনি কতটা মিস করবেন, সেটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও বিদায়ী চিঠিতে উল্লেখ করেন কুক।
কুকের ১৫ বছরের নেতৃত্ব
স্টিভ জবসের কাছ থেকে অ্যাপলের নেতৃত্ব নেওয়ার পর টিম কুকের সময়েই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রযুক্তি কোম্পানিতে পরিণত হয়। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপলের পণ্য ও সেবার পরিধিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কুকের সময়ে অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস ও অ্যাপল ভিশন প্রো-এর মতো নতুন পণ্য বাজারে এসেছে। একই সময়ে আইফোনকেন্দ্রিক ব্যবসার পাশাপাশি সেবা ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার পণ্যেও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব বাড়ে।
টার্নাসের সামনে বড় পরীক্ষা
অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাসের জন্য শুরুতেই বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আসন্ন অ্যাপল ইভেন্টে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রো, নতুন অ্যাপল ওয়াচ এবং অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডএবল আইফোন নিয়ে এরই মধ্যে প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসকে নিয়ে আশাবাদী কুকও। বিদায়ী চিঠিতে হার্ডওয়্যার খাতে টার্নাসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছেন তিনি।
কুকের ভাষায়, “জন যেভাবে বিশ্বকে বদলে দেওয়া প্রযুক্তি পণ্য তৈরির বিষয়গুলো বোঝেন, খুব কম মানুষেরই সে ধরনের দক্ষতা রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপল এগিয়ে যাবে—এ নিয়ে আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।”
২৫ বছর পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে টার্নাস
প্রায় ২৫ বছর আগে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমের সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দিয়েছিলেন টার্নাস। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন হার্ডওয়্যার প্রকল্পে কাজ করার পর শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পেলেন তিনি।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর টার্নাস বলেছিলেন, তাঁর পুরো কর্মজীবন বলতে গেলে অ্যাপলেই কেটেছে। স্টিভ জবসের অধীনে কাজ করার এবং টিম কুককে নেতৃত্ব ও পরামর্শদাতা হিসেবে পাওয়ার সুযোগকে তিনি নিজের সৌভাগ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন।
“এ দায়িত্বে আসতে পেরে আমি বিনম্র বোধ করছি। বিগত আধাশতাব্দী ধরে যে মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি কোম্পানিটিকে অনন্য করে তুলেছে, তা ধরে রেখেই অ্যাপলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি,” বলেন টার্নাস।





















