গেমিং শিল্পে কয়েক বছর ধরে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এর অংশ হিসেবে দুবাই ২০৩৩ সালের মধ্যে গেমিং-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবও গেমিং শিল্পকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
গেমিং শিল্পে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনা ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাপসফ্লায়ারের গেমিং বিভাগের প্রডাক্ট ডিরেক্টর অ্যাডাম স্মার্ট। সম্প্রতি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত গেমসকমে অংশ নেন তিনি। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের গেমিং শিল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা চিহ্নিত করেন স্মার্ট।
তার মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের গেমিং ইভেন্টগুলোয় সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় অংকের বিনিয়োগ করছে।
এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সৌদি আরবের ২০২৫ সালের ই-স্পোর্টস বিশ্বকাপের কথা উল্লেখ করেন। ওই আয়োজনে ৩০ লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত হয়। অনলাইনে এর দর্শন সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি ছিল। তবে শুধু বড় আয়োজন করলেই একটি শক্তিশালী গেমিং শিল্প গড়ে ওঠে না বলে মনে করেন তিনি।
গেমিং বাজারের আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো নারী গেমারদের গুরুত্ব বাড়া। স্মার্ট বলেন, ‘গেমসকমে এবার এমন অনেক গেম দেখা গেছে, যেগুলো নারী খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে তৈরি ও বিপণন করা হয়েছে। নান্দনিকতা, চরিত্রের সাজসজ্জা ও সামাজিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেয়া গেমের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের মোবাইলনির্ভর গেমিং সংস্কৃতিকে পিছিয়ে থাকার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না স্মার্ট। বরং এটিকে এ অঞ্চলের একটি সুবিধা হিসেবে দেখছেন তিনি। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ গেমার স্মার্টফোনে গেম খেলেন। ফলে মোবাইল গেমের ব্যবহারকারী সংগ্রহ ও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্মার্টের মতে, গ্র্যান্ড থেফট অটো (জিটিএ) ৬-এর মতো বড় গেম বাজারে এলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কনসোল গেমিংয়ের ব্যবহারও বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো গত কয়েক বছরে গেমিংয়ে বড় বিনিয়োগ করলেও সামনে তা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করেন স্মার্ট। গেমসকমে যে প্রবণতাগুলো দেখা গেছে, তার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগের দিকগুলো অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাইয়ে গেমিং কোম্পানির সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৪ সালে শহরটিতে ৩৬৮টির বেশি গেমিং কোম্পানি ছিল। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৫। তবে শুধু কোম্পানির নিবন্ধন, খেলোয়াড়ের সংখ্যা বা বিনিয়োগ থাকলেই একটি টেকসই সৃজনশীল শিল্প গড়ে উঠবে না বলে সতর্ক করেছেন স্মার্ট।
গেমিং খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক গেম নির্মাতাদের জন্য মধ্যপ্রাচ্য আরো গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ই-স্পোর্টস ও গেমিং আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও এ অঞ্চলের প্রভাব বাড়তে পারে।




















