ন্যান্ড (NAND) ও ডিআরএএম (DRAM) মেমোরি চিপের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের পতনের পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশন (IDC)।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড কোয়ার্টারলি মোবাইল ফোন ট্র্যাকার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন শিপমেন্ট ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১০০ কোটির কিছু বেশি ইউনিটে নেমে আসতে পারে।
তবে ইউনিট বিক্রি কমলেও স্মার্টফোন বাজারের মোট আর্থিক মূল্য বাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য (ASP) ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫৮১ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে মোট বাজারমূল্য ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৬১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকেও শিপমেন্ট কমেছে
২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন—দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন শিপমেন্ট হয়েছে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ইউনিট। এক বছর আগে একই সময়ে ২৯ কোটি ৮৩ লাখ ইউনিট শিপমেন্ট হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শীর্ষ পাঁচ নির্মাতার মধ্যে স্যামসাং ও অ্যাপল শিপমেন্ট বাড়াতে পারলেও শাওমি, অপো ও ভিভোর শিপমেন্ট কমেছে।
স্যামসাং ৬ কোটি ২৭ লাখ ইউনিট শিপমেন্ট করে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বাজার দখলে রেখেছে। এক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটির বাজার অংশ ছিল ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
অ্যাপল ৫ কোটি ৫৭ লাখ ইউনিট শিপমেন্ট করে ২০ দশমিক ২ শতাংশ বাজার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এক বছর আগে তাদের বাজার অংশ ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
শাওমির শিপমেন্ট ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৩ কোটি ১২ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বাজার অংশ কমে হয়েছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
অপোর শিপমেন্ট ১৭ দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ কোটি ৮৯ লাখ এবং ভিভোর শিপমেন্ট ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২ কোটি ১২ লাখ ইউনিট হয়েছে।
মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় চাপ বাজেট ফোনে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাশ্রয়ী ও এন্ট্রি-লেভেল স্মার্টফোনে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্মাতাদের অনেকেই কম দামের মডেলের উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে তুলনামূলক উচ্চমূল্যের ফোনের ক্ষেত্রে নির্মাতারা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০০ ডলারের নিচের স্মার্টফোনের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। গত বছর এই দামের শ্রেণিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ কোটি ৩০ লাখ ইউনিট ফোন বিক্রি হয়েছিল।
অ্যানড্রয়েডে বড় প্রভাবের পূর্বাভাস
মেমোরি সংকটের কারণে সাশ্রয়ী ফোনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অ্যানড্রয়েড ইকোসিস্টেমে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যানড্রয়েড ফোনের বিক্রি ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমতে পারে। বিপরীতে অ্যাপলের আইওএসের বাজার অংশ প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
চীনা বাজারে হুয়াওয়ের নিজস্ব হারমনিওএসের ব্যবহারও বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে হারমনিওএস চালিত ডিভাইসের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ ইউনিটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে আইডিসি।
ফোল্ডেবল ফোনে ভিন্ন চিত্র
সামগ্রিক বাজার সংকুচিত হলেও ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে।
আইডিসির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের শিপমেন্ট ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ ইউনিট হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের বাজারে প্রবেশকেও এই খাতের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়তে পারে ফোন ব্যবহারের মেয়াদ
স্মার্টফোনের দাম বাড়ার কারণে নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন ক্রেতারা। ফলে পুরোনো ফোন তুলনামূলক বেশি সময় ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে পারে।
আইডিসির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মেমোরি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সামনের কয়েক বছরেও স্মার্টফোন বাজারে থাকতে পারে। ফলে কম দামের স্মার্টফোনের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন ডিভাইসের গড় দামও বাড়তে পারে।



















