আজকের দিনে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর দাপট চারপাশে। ভালো মানের সিনেমা কিংবা পছন্দের টিভি সিরিজ দেখতে গিয়ে প্রতি মাসে পকেট থেকে খসে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। সাবস্ক্রিপশন ফি গুণতে গুণতে ক্লান্ত অনেকেই হয়তো ভাবেন, টাকা না ঢাললে হয়তো ভালো বিনোদন সম্ভব নয়। তবে ধারণাটি পুরোপুরি সত্যি নয়।
প্রযুক্তি দুনিয়ায় একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই দেখা যাবে, একেবারেই বিনামূল্যে বৈধ উপায়ে বিনোদন উপভোগের এক বিশাল ভাণ্ডার উন্মুক্ত রয়েছে। প্রচলিত ক্যাবল টিভির মতো চ্যানেল সার্ফিং বা পছন্দের তালিকা থেকে সিনেমা বাছাই- সব সুযোগই মেলে এসব নিখরচায় সেবা দেওয়া প্ল্যাটফর্মে।
যেহেতু বিনামূল্যে কনটেন্ট দেখার সুযোগ মিলছে, তাই মাঝে কিছু বিজ্ঞাপন মেনে নেওয়াটাই স্বাভাবিক। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে স্মার্ট টিভি ব্যবহার করলে এই নিখরচার বিনোদনই হতে পারে আপনার অবসরের সেরা সঙ্গী।
টিভির ভেতরের নিজস্ব ফ্রি চ্যানেল
বিনামূল্যে টিভি দেখার যাত্রা শুরু করার জন্য খুব বেশি দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে বাজারে থাকা প্রায় প্রতিটি স্মার্ট টিভিতেই আগে থেকে ইনস্টল করা থাকে বিশেষ কিছু ফ্রি সেবা, যাকে প্রযুক্তির ভাষায় বলা হয় ফ্রি অ্যাড-সাপোর্টেড স্ট্রিমিং টেলিভিশন বা ‘ফাস্ট’। এসব প্ল্যাটফর্মে অন-ডিমান্ড সিনেমার পাশাপাশি ক্যাবল টিভির মতো ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারিত বিভিন্ন চ্যানেল বিনামূল্যে দেখা যায়।
এলজির টিভিতে ‘এলজি চ্যানেলস’, স্যামসাংয়ে ‘স্যামসাং টিভি প্লাস’, কিংবা ‘গুগল টিভি ফ্রিপ্লে’-এর মতো সেবাগুলো নিজেদের টিভিতে আগে থেকেই যুক্ত থাকে।
একদম নতুন ব্লকবাস্টার সিনেমা বা জনপ্রিয় সরাসরি খেলাধুলার সম্প্রচার এখানে না মিললেও গেম শো, লাইফস্টাইল, রান্নার অনুষ্ঠান, খবর ও নানা ঘরানার সিনেমার কোনো কমতি থাকে না এতে।
বিজ্ঞাপনভিত্তিক জনপ্রিয় দুই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম
টিভির নিজস্ব অ্যাপের বাইরে গিয়ে পরিধি বাড়াতে চাইলে অ্যাপ স্টোর থেকে বিনামূল্যে নামিয়ে নেওয়া যায় ‘টুবি’ বা ‘প্লুটো টিভি’-র মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় কিছু সেবা।
টুবি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সাবস্ক্রিপশন ফি তো দূরের কথা, অ্যাকাউন্ট না খুলে বা সাইন-আপ না করেও অবাধে সিনেমা ও ড্রামা দেখা সম্ভব। এখানে সিনেমার বিশাল সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং টুবি অরিজিনালসের ভিন্নধর্মী কনটেন্ট মিলবে।
অন্যদিকে প্লুটো টিভির মূল আকর্ষণ হলো তাদের লাইভ চ্যানেলের সংগ্রহ। পুরনো ক্যাবল টিভির আমেজ ফিরিয়ে আনতে এটি অতুলনীয়। অপরাধবিষয়ক সিরিজের ভক্তদের জন্য ২৪ ঘণ্টা একই শো সম্প্রচার করে এমন নির্দিষ্ট চ্যানেল থেকে শুরু করে অ্যানিমে, স্থানীয় খবর এবং গান দেখার বিশেষ ব্যবস্থাও এতে রয়েছে।
লাইব্রেরির কার্ডে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র
যাঁদের বিদেশে পাঠাগারের বা লাইব্রেরির সদস্যপদ রয়েছে, তাঁদের জন্য বিনোদনের এক চমৎকার দুয়ার খুলে দেয় ‘হুপলা’ এবং ‘ক্যানোপি’ নামের দুটি সেবা। নির্দিষ্ট লাইব্রেরি কার্ডের তথ্য দিয়ে বিনামূল্যে এসব অ্যাপে ঢোকা যায়।
হুপলা থেকে বিশ্বের নামী সব ব্রডকাস্টারের নাটক, সিনেমা ও কমিকস উপভোগ করা যায়। অন্যদিকে ক্যানোপির মনোযোগ মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার চেয়ে প্রামাণ্যচিত্র, তথ্যচিত্র এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ভিন্নধারার চলচ্চিত্রের ওপর বেশি। এসব প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট দেখার সময় কোনো বিজ্ঞাপনের বিরক্তি সইতে হয় না।
ইউটিউবের অফিশিয়াল সিনেমা বিভাগ
ইউটিউব বলতেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা সাধারণ ভিডিওর দৃশ্য। কিন্তু বৈধভাবে কপিরাইট বজায় রেখে অফিশিয়াল ফ্রি সিনেমা দেখার বিশাল এক ভাণ্ডার রয়েছে ইউটিউবেই।
ইউটিউবের বাঁ দিকের মেনু থেকে সিনেমা ও টিভি বিভাগে ঢুকে ‘ফ্রি’ ক্যাটাগরিতে গেলেই শত শত সিনেমা ও সিরিজ বিনামূল্যে দেখা যায়। এ ছাড়া বিশ্বখ্যাত প্রডাকশন হাউজগুলোর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেও বিনামূল্যে দারুণ সব কনটেন্ট মেলে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স ক্লাসিকসের চ্যানেল থেকে শুরু করে পুরনো দিনের তুমুল জনপ্রিয় কার্টুন বা কাল্ট ক্লাসিক সিনেমাগুলো খুব সহজেই ইউটিউব অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্ট টিভিতে দেখা সম্ভব।
অ্যামাজন প্রাইম ও স্লিংয়ের নতুন দিগন্ত
টাকা খরচ না করে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও অ্যাপ ব্যবহার করেও প্রচুর ফ্রি কনটেন্ট দেখা যায়। আগে আলাদা অ্যাপ হিসেবে থাকলেও বর্তমানে প্রাইম ভিডিওর অ্যাপেই বিনামূল্যে দেখার বিশাল এক সংগ্রহ যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এখানে কেনাবেচা ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কনটেন্টের পাশাপাশি একটি আলাদা ফ্রি ক্যাটাগরি থাকে, যেখান থেকে অন-ডিমান্ড সিনেমা ও লাইভ চ্যানেল দেখা যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাবল টিভির আদলে তৈরি ‘স্লিং ফ্রিস্ট্রিম’ নামের আরেকটি প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই সংবাদ ও রিয়েলিটি শোর নানা চ্যানেল দেখা সম্ভব। ফ্রি অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে এতে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে প্রায় ১০ ঘণ্টা পছন্দের অনুষ্ঠান রেকর্ড বা ডিভিআর করে রাখার সুযোগও পাওয়া যায়।




















