মঞ্চে উন্মোচনের পর এবার সরাসরি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ মিলল ভিভোর নতুন ফ্ল্যাগশিপ Vivo X500 Pro Max। চীনের সাংহাইয়ে আয়োজিত লঞ্চ ইভেন্টে ডিভাইসটির ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রাথমিক স্যাম্পলও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সিরিজের শীর্ষ মডেলটিতে ভিভো এবার ক্যামেরা হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি সেন্সর প্রযুক্তি ও জেইসের (ZEISS) অপটিক্যাল সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফোটো ক্যামেরা এবং LOFIC প্রযুক্তিসম্পন্ন প্রধান সেন্সরই ফোনটির ক্যামেরা ব্যবস্থার সবচেয়ে আলোচিত দিক।
প্রধান ক্যামেরায় LOFIC, আলো-ছায়ায় ডিটেইল ধরে রাখার চেষ্টা
Vivo X500 Pro Max-এর প্রধান ক্যামেরায় রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ১/১.২৮ ইঞ্চি সেন্সর। এর সঙ্গে রয়েছে ২৪ মিমি সমতুল্য ফোকাল লেন্থ ও f/1.6 অ্যাপারচারের লেন্স।
সেন্সরটিতে ব্যবহার করা হয়েছে LOFIC (Lateral Overflow Integration Capacitor) প্রযুক্তি। এর উদ্দেশ্য উজ্জ্বল ও অন্ধকার অংশের মধ্যে এক্সপোজারের পার্থক্য সামলাতে সেন্সরকে আরও কার্যকর করা।
ইভেন্টে পাওয়া প্রাথমিক স্যাম্পলগুলোতে তীব্র আলো ও ছায়া একই ফ্রেমে থাকা দৃশ্যগুলোতে হাইলাইট ও শ্যাডোর মধ্যে বেশ ভালো ভারসাম্য দেখা গেছে। উজ্জ্বল অংশে অতিরিক্ত আলো জমে গিয়ে ডিটেইল হারানোর প্রবণতাও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
জেইসের ন্যাচারাল কালার প্রোফাইল ব্যবহারের কারণে ছবির রঙও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড না হয়ে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত ক্যামেরা পরীক্ষার ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পূর্ণাঙ্গ রিভিউয়ের জন্য বিভিন্ন আলো, রাতের পরিবেশ, পোর্ট্রেট, মুভিং সাবজেক্ট ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আরও বিস্তৃত পরীক্ষা প্রয়োজন।
৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা
আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরায় রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সর এবং ১৫ মিমি সমতুল্য f/2.0 লেন্স। বড় ফ্রেমে স্থাপত্য, ল্যান্ডস্কেপ কিংবা গ্রুপ ছবি তোলার ক্ষেত্রে এই ক্যামেরার বিস্তৃত ফিল্ড-অফ-ভিউ কাজে আসবে।
প্রাথমিক ছবিতে ফ্রেমের প্রান্তে ডিটেইল ধরে রাখার সক্ষমতা সন্তোষজনক মনে হয়েছে। আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্সে সাধারণত দেখা দেওয়া প্রান্তীয় বিকৃতিও সফটওয়্যার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপে ভিন্ন মাত্রার জুম
ফোনটির সবচেয়ে আলোচিত ক্যামেরাটি হলো ২০০ মেগাপিক্সেলের ZEISS APO পেরিস্কোপ টেলিফোটো।
এতে রয়েছে ৮৫ মিমি সমতুল্য f/2.7 লেন্স এবং ১/১.৪ ইঞ্চির বড় সেন্সর। উচ্চ রেজ্যুলেশনের কারণে দূরের কোনো বিষয়কে ক্রপ করার সময় অতিরিক্ত ডিটেইল ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
৮৫ মিমি ফোকাল লেন্থে পোর্ট্রেট ছবিতেও স্বাভাবিক কমপ্রেশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়া যায়। প্রাথমিক স্যাম্পলে পোর্ট্রেট সাবজেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা করার ক্ষেত্রেও ক্যামেরাটির সক্ষমতা চোখে পড়েছে।
ভিভো আলাদাভাবে একটি টেলিকনভার্টার অ্যাকসেসরিজ ব্যবহারের সুবিধাও দেখিয়েছে। ফলে দূরের সাবজেক্টের ক্ষেত্রে অপটিক্যাল জুমের পরিসর আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ভিডিওতেও উচ্চাভিলাষী স্পেসিফিকেশন
ফটোগ্রাফির পাশাপাশি ভিডিও সক্ষমতার ক্ষেত্রেও Vivo X500 Pro Max-এ উচ্চাভিলাষী কিছু ফিচার রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে 17EV ট্রু-ডায়নামিক লগ ভিডিও এবং সর্বোচ্চ 4K/240fps স্লো-মোশন ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা।
এসব ফিচার বিশেষ করে মোবাইল ভিডিও নির্মাতা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফিল্মমেকারদের জন্য কাজে আসতে পারে। তবে বাস্তব ব্যবহারে ভিডিওর ডায়নামিক রেঞ্জ, স্ট্যাবিলাইজেশন, অটোফোকাস এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ কেমন হয়, তা দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষায় আরও পরিষ্কার হবে।
সিরিজে থাকছে আরও দুই মডেল
Vivo X500 Pro Max-এর পাশাপাশি সিরিজে রয়েছে Vivo X500 Pro ও স্ট্যান্ডার্ড Vivo X500।
X500 Pro-তে রয়েছে ৬.৩১ ইঞ্চির ডিসপ্লে ও ৬,৫১০ এমএএইচ ব্যাটারি। অন্যদিকে X500-এ ব্যবহার করা হয়েছে Dimensity 9600 Pro চিপসেট এবং ৮,০০০ এমএএইচ সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে Vivo X500 Pro Max-এ ক্যামেরা হার্ডওয়্যারের দিকে ভিভোর জোর স্পষ্ট। বিশেষ করে বড় সেন্সরের প্রধান ক্যামেরা এবং ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফোটো এটিকে ক্যামেরা-কেন্দ্রিক ফ্ল্যাগশিপগুলোর আলোচনায় নিয়ে আসতে পারে।
তবে ফোনটির ক্যামেরা বাস্তবে কতটা এগিয়ে, সেটি নিশ্চিতভাবে বলতে হলে পূর্ণাঙ্গ ল্যাব ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।
ডিভাইসটির বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা না থাকলেও চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




















