অ্যাপলের প্রথম টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো ল্যাপটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। তবে এই ফিচারটি নিয়ে একটি পুরোনো উদ্বেগও সামনে এসেছে তা হলো স্ক্রিনে আঙুলের ছাপ পড়ার সমস্যা।
২৮ অক্টোবর CNET-এ প্রকাশিত এক মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে লেখক জেফ কার্লসন প্রশ্ন তুলেছেন, ম্যাকবুক প্রো-এর ডিসপ্লেতে সরাসরি ট্যাপ ও সোয়াইপ করার সুবিধা কি স্ক্রিন পরিষ্কার রাখার বাড়তি ঝামেলার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে?
আগের ম্যাকবুক মডেলগুলোর তুলনায় নতুন ডিভাইসটিতে ব্যবহারকারীরা আইফোন বা আইপ্যাডের মতো সরাসরি স্ক্রিনে স্পর্শ করে কাজ করতে পারবেন। তবে কার্লসনের মতে, ল্যাপটপের স্বাভাবিক ব্যবহারেও ডিসপ্লেতে আঙুলের তেলতেলে দাগ পড়তে পারে।
কেন ফিংগার প্রিন্ট সমস্যা
কার্লসন ব্যাখ্যা করেছেন, স্বাভাবিক ব্যবহারের সময় কি-বোর্ডে আঙুলের তেল জমে। ল্যাপটপের ঢাকনা বন্ধ করলে কি-বোর্ডের সেই তেলতেলে অবশিষ্টাংশ ডিসপ্লের কাচে লেগে দৃশ্যমান দাগ তৈরি করতে পারে।
সরাসরি টাচস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা অ্যাপ ব্যবহারের সময় ঘন ঘন স্ক্রিনে ট্যাপ করেন, সোয়াইপ করেন কিংবা আঙুলের সাহায্যে জুম ইন ও জুম আউট করেন, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি ঘটতে পারে।
নতুন ম্যাকবুক প্রোতে ওলিওফোবিক কোটিং রয়েছে। এটি এমন একধরনের পৃষ্ঠতল প্রলেপ, যা আঙুলের ছাপের দাগ কমাতে সাহায্য করে। অ্যাপলের অন্যান্য টাচস্ক্রিন ডিভাইসেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
তবে কার্লসনের মতে, বড় আকারের প্রো এক্সডিআর ডিসপ্লেতে এই কোটিং কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো পরীক্ষা করে দেখার বিষয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, অ্যাপলের ৯ ডলারের পলিশিং ক্লথ বা স্ক্রিন পরিষ্কারের কাপড়টি ল্যাপটপের সঙ্গে বিনা মূল্যে দেওয়া হয় না; এটি আলাদাভাবে কিনতে হয়।
দামি ডিসপ্লে, সঙ্গে পরিষ্কার রাখার বাড়তি ঝামেলা
টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর ডিসপ্লে। অ্যাপলের দাবি, এতে সর্বোচ্চ ২,০০০ নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ওএলইডি প্রযুক্তির কারণে এতে গভীর কালো রং এবং প্রাণবন্ত রঙের সমন্বয় দেখা যায়।
ফটোগ্রাফার ও অন্যান্য সৃজনশীল পেশাজীবীদের কাছে ডিসপ্লের উন্নত ছবির মান বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে। কিন্তু স্ক্রিনে আঙুলের ছাপ পড়লে ছবি পর্যালোচনা বা সম্পাদনার সময় তা বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কাচের ওপরের দাগকে ছবির ধুলাবালি বা অন্য কোনো ত্রুটি বলে ভুল হতে পারে।
নিজেও একজন ফটোগ্রাফার হওয়ায় কার্লসন বলেছেন, স্ক্রিনে দাগ থাকলে এমন কাজ জটিল হয়ে উঠতে পারে, যেখানে ছবির সূক্ষ্ম বিষয়গুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল প্রশ্ন হলো—স্ক্রিনে সরাসরি স্পর্শ করে কাজ করার অতিরিক্ত সুবিধা কি বারবার ডিসপ্লে পরিষ্কার করার ঝামেলাকে যৌক্তিক করে তোলে?
ম্যাক ব্যবহারকারীরা কি টাচস্ক্রিন গ্রহণ করবেন?
টাচস্ক্রিন ল্যাপটপের দিকে অ্যাপলের এই অগ্রযাত্রা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি বহু বছর ধরে এ ধারণা থেকে দূরে ছিল। এর আগে ম্যাকবুক প্রোতে টাচভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের জন্য টাচ বার চালু করেছিল অ্যাপল। তবে শেষ পর্যন্ত ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে অনেকের কাছেই ট্যাপ, সোয়াইপ ও পিঞ্চ করে জুম করার মতো অঙ্গভঙ্গি এখন পরিচিত।
টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে ম্যাপে জুম করা, নোটিফিকেশন সরিয়ে দেওয়া কিংবা সৃজনশীল কাজের সফটওয়্যারের বিভিন্ন ফিচার ব্যবহার করা সহজ হতে পারে। তবে যারা কিবোর্ড ও ট্র্যাকপ্যাড ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের কাছে সরাসরি ডিসপ্লেতে স্পর্শ করার তেমন প্রয়োজনীয়তা নাও থাকতে পারে।
কার্লসন স্বীকার করেছেন, ব্যবহারকারীরা নতুন ম্যাকবুক প্রো-এর স্ক্রিনে স্পর্শ না করেও আগের মতো কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে ফিচার খুব কম ব্যবহার করা হতে পারে, সেটির জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করার যৌক্তিকতা কতটা—বিশেষ করে যখন টাচস্ক্রিন সুবিধাটি নতুন ওএলইডি ডিসপ্লের সঙ্গে একত্রে দেওয়া হচ্ছে।






















