বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল নতুন নতুন অ্যাপ ও সেবা চালুর জন্য সুপরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং, সংগীত, ছবি কিংবা ই-মেইল, প্রায় সব ক্ষেত্রেই গুগল নতুন কিছু এনেছে। তবে একদিকে যেমন গুগল উদ্ভাবনী, অন্যদিকে তেমনি অনেক অ্যাপ বন্ধ করার ইতিহাসও রয়েছে এর। টেক জায়ান্টটির জনপ্রিয় কিছু অ্যাপ বিভিন্ন সময় নানা কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিচে এমন সাতটি আলোচিত অ্যাপ তুলে ধরা হলো—
গুগল অ্যালো
গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, স্মার্ট রিপ্লাই, ইনকগনিটো মোডসহ নতুন ফিচার নিয়ে চালু হয়েছিল অ্যালো। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের মতো জনপ্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে এটি টিকতে পারেনি। ২০১৯ সালে অ্যাপটি বন্ধ করে অ্যান্ড্রয়েড মেসেজ ও আরসিএসের দিকে মনোযোগ দেয় গুগল।
পিকাসা
২০০৪ সালে অধিগ্রহণ করা ডেস্কটপ ফটো ম্যানেজমেন্ট ও এডিটিং টুলটি ২০১৬ সালে বন্ধ করে দেয় গুগল। এর স্থানে আসে গুগল ফটোজ। ফটোজে অনেক বেশি ফিচার ও ক্লাউড সুবিধা থাকার পরও অফলাইন ও সহজ ব্যবস্থাপনার জন্য পিকাসা এখনো অনেকের কাছে প্রিয়।
গুগল প্লাস
ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চালু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুগল প্লাস। সার্কেলস, হ্যাংআউটস, স্পার্কসের মতো ফিচার থাকলেও খুব বেশি ব্যবহারকারী পায়নি অ্যাপটি। ২০১৮ সালে তথ্য ফাঁসের ঘটনা এর বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে।
গুগল ইনবক্স
ই-মেইলের কাজকে আরো সহজ ও গুছিয়ে করতে ২০১৪ সালে ইনবক্স বাই জিমেইল চালু করেছিল গুগল। এটি একটি পরীক্ষামূলক ই-মেইল অ্যাপ ছিল। তবে ২০১৯ সালে গুগল ইনবক্স বন্ধ করে দেয়। কারণ অ্যাপটির অনেক জনপ্রিয় ফিচার মূল জিমেইলেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুগল প্লে মিউজিক
সংগীত শোনার পাশাপাশি নিজের ৫০ হাজার গান পর্যন্ত ক্লাউডে রাখার সুবিধা দিত গুগল প্লে মিউজিক। ২০২০ সালে গুগল এটি ইউটিউব মিউজিকে একীভূত করে। কিন্তু অনেকের মতে, ইউটিউব মিউজিকের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ফিচারটি আগের মতো শক্তিশালী নয়।
গুগল পডকাস্টস
অ্যান্ড্রয়েড ও গুগল সার্চের সঙ্গে যুক্ত পরিষ্কার ও সহজ একটি পডকাস্ট অ্যাপ ছিল এটি। কিন্তু ২০২৪ সালে এটি বন্ধ করে ইউটিউব মিউজিকে যুক্ত করা হয়। অনেক ব্যবহারকারী আলাদা অ্যাপের পরিবর্তে এ একীভূতকরণে হতাশ হন।
গুগল রিডার
ওয়েবসাইট ও ব্লগ এক জায়গায় পড়ার সুবিধা দিত অ্যাপটি। অ্যালগরিদম ছাড়াই কনটেন্ট ফলো করার সুযোগ থাকায় এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে ‘ব্যবহারকারী কম’ দেখিয়ে গুগল পরিষেবাটি বন্ধ করে দেয়।
গুগলের পরীক্ষামূলক ধারা
এসব অ্যাপ বন্ধ হওয়া যেমন গুগলের পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, তেমনি ব্যবহারকারীর আস্থায়ও প্রভাব ফেলে। ইনবক্স জিমেইলের ফিচার বাড়িয়েছে, পিকাসা তৈরি করেছে গুগল ফটোজের পথ, প্লে মিউজিক বদলে দিয়েছে ইউটিউব মিউজিককে। তবু বারবার অ্যাপ বন্ধ হওয়ায় অনেকেই এখন নতুন গুগল অ্যাপ ব্যবহার শুরু করতে দ্বিধায় পড়েন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধারা গুগলের ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা আরো সতর্ক করে তুলতে পারে। মেকইউজঅব অবলম্বনে

















