‘ডিজিটাল জীবনধারা: সংযোগে স্থিতি, সহনশীলতায় শক্তি’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশেও আজ ১৭ মে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’।
প্রতিবছরের মতো এবারও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দিবসটি পালন করছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব বিমানবন্দরে উচ্চগতির ফ্রি ওয়াইফাই ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই সেবার উদ্বোধন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সিম ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ
সরকার বলছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে বৈষম্য কমানো এবং ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ হ্রাসে বিমানবন্দরের এই ফ্রি ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর ফলে বিদেশ থেকে দেশে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমেই মোবাইল সিম ছাড়াই ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারবেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য এটি তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সহজ করবে এবং বিমানবন্দরের সেবার মানও বাড়াবে।
টেলিযোগাযোগ দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের সূচনা হয় ১৮৬৫ সালের ১৭ মে। ওই দিন ফ্রান্সের প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ কনভেনশন’-এর মাধ্যমে গঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ ইউনিয়ন’, যা পরে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) হিসেবে পরিচিতি পায়।
আইটিইউ ১৯৬৯ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালে জেনেভা এবং ২০০৫ সালে তিউনিসে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি’-তে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের বিষয়ে বৈশ্বিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে জাতিসংঘ ১৭ মে-কে ‘বিশ্ব তথ্য সংঘ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। একই বছরের নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’ এবং ‘বিশ্ব তথ্য সংঘ দিবস’ একত্রে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
এরপর থেকে দিবসটি ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ হিসেবে আইটিইউ-এর ১৯৩টি সদস্য দেশে পালন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে জীবনযাত্রা
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ফাইভ-জি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্লকচেইন ও আইওটি প্রযুক্তি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাণিজ্যেও বড় পরিবর্তন এনেছে। এসব প্রযুক্তি বৈষম্য কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যাংক, আইটিইউ ও ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ডিজিটাল উদ্ভাবন এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন প্রযুক্তি সরকারি সেবা সহজ করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতেও ভূমিকা রাখছে।
ট্রেনেও চালু হয়েছিল ফ্রি ওয়াইফাই
এর আগে গত ১৩ মার্চ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সহযোগিতায় দেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ও ভিআইপি আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করা হয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন গণপরিবহন ও জনসেবামূলক স্থানে এ ধরনের ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ করা হতে পারে।




















