বাংলাদেশে VoWiFi (Wi‑Fi Calling) প্রযুক্তি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজের মধ্যেও ব্রডব্যান্ড বা Wi‑Fi সংযোগ ব্যবহার করে ভয়েস কল করার সুবিধা দেয় এই প্রযুক্তি। বিশ্বের অনেক দেশে এটি এখন একটি সাধারণ টেলিকম সেবা হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার এখনও সীমিত এবং অপারেটরভেদে নীতিমালায় রয়েছে বড় পার্থক্য।
বর্তমানে গ্রামীণফোনের Wi‑Fi Calling সেবা চালু করতে গ্রাহকদের কাস্টমার কেয়ারের অনলাইন লাইভ চ্যাটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে ফোনের মডেল, IMEI নম্বর, IMEI-এর প্রথম ৮ ডিজিট (TAC) এবং ব্যবহৃত ISP-এর তথ্য জমা দিতে বলা হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট TAC নম্বরের ডিভাইস হলেই কেবল VoWiFi সক্রিয় করা হয়।
সমস্যা হলো, একই মডেলের ফোন হলেও সব ইউনিটকে সমানভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, Samsung Galaxy S24 Ultra ব্যবহারকারী একজন গ্রাহকের ডিভাইস প্রযুক্তিগতভাবে VoWiFi সমর্থন করলেও শুধুমাত্র IMEI-এর TAC নম্বর অনুমোদিত তালিকায় না থাকায় সেবা চালু করা হয়নি। অথচ একই ডিভাইসে অন্য অপারেটরের Wi‑Fi Calling সেবা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, অনেক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী একবার VoWiFi সক্রিয় হয়ে গেলে পরবর্তীতে বিভিন্ন ISP এবং অনুমোদিত তালিকার বাইরে থাকা ডিভাইসেও একই সিমে Wi‑Fi Calling কার্যকর থাকে। যদি বাস্তব পরিস্থিতি এমনই হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সেবাটি চালু করার সময় এত বিস্তৃত ডিভাইস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা কতটা যৌক্তিক?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, VoWiFi সেবা চালুর মূল শর্ত হলো অপারেটরের IMS প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকের নম্বর provisioned থাকা এবং ডিভাইসের সফটওয়্যার VoWiFi সমর্থন করা। আধুনিক Android ও iPhone ডিভাইসের অধিকাংশই এই প্রযুক্তি সমর্থন করে। ফলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট TAC নম্বরের ভিত্তিতে সেবা সীমাবদ্ধ রাখা প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের চেয়ে প্রশাসনিক নীতির অংশ বলেই মনে হতে পারে।
অন্যদিকে কিছু অপারেটর তুলনামূলকভাবে সহজ প্রক্রিয়ায় Wi‑Fi Calling সেবা প্রদান করছে। ফলে একই ডিভাইস এক অপারেটরে সমর্থিত হলেও অন্য অপারেটরে অসমর্থিত হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের এই সময়ে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করার পরিবর্তে যদি গ্রাহকদের IMEI, স্ক্রিনশট, ডিভাইস যাচাই এবং অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তবে তা সেবার প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গ্রাহকদের প্রত্যাশা, Wi‑Fi Calling সেবা চালুর ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করা হবে। কোন ডিভাইস কেন সমর্থিত বা অসমর্থিত, তার প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা এবং অপ্রয়োজনীয় TAC-ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ একটি প্রযুক্তি যদি বাস্তবে কাজ করতে সক্ষম হয়, তাহলে সেটির ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত অপারেটরের প্রধান লক্ষ্য।
Wi‑Fi Calling আজ আর পরীক্ষামূলক কোনো প্রযুক্তি নয়; এটি আধুনিক টেলিকম সেবার একটি মৌলিক অংশ। তাই গ্রাহকবান্ধব নীতি ও উন্মুক্ত সমর্থনই হতে পারে এই সেবার সফল সম্প্রসারণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।



















