জাতীয় বাজেটে মোবাইল ফোনের সিমের ওপর ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুফল গ্রাহক নয়, বরং মোবাইল অপারেটরদের কাছে চলে যাবে। অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারাবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
বুধবার রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের (টিআইপিএপি) উদ্যোগে আয়োজিত টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন ।
এ সময় টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহার করছে। নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রে একটি অপারেটরের মোট ব্যয় প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। এর মধ্যে শুধু সিম ট্যাক্সই ছিল ৩০০ টাকা। বাকি অর্থ বিতরণ ব্যয়, খুচরা বিক্রেতার কমিশনসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয়।
তিনি জানান, সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের ফলে অপারেটরদের প্রতি সিমে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমে যাবে, যা সরাসরি তাদের আর্থিক সাশ্রয়ে পরিণত হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে একজন গ্রাহক মোবাইল অপারেটরকে ১০০ টাকা পরিশোধ করলে তার মধ্যে প্রায় ৩৯ টাকাই বিভিন্ন কর হিসেবে সরকারের কাছে যায়। অর্থাৎ টেলিকম খাতে সবচেয়ে বড় করদাতা আসলে গ্রাহক। অথচ এবারের বাজেটে গ্রাহকদের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধা রাখা হয়নি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইপিএপির আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে গিয়ে স্মার্টফোনের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হলে দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক পরিচালক রাশাদ কবির ও শেয়ার ট্রিপের সিইও সাদিয়া হক। এ সময় ছিলেন বেসিসের সাবেক পরিচালক ও বন্ডস্টাইন টেকনোলজি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মীর শাহরুখ ইসলাম।






















