মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে নিবন্ধিত সিমের সর্বোচ্চ সংখ্যা ১০টি থেকে কমিয়ে পাঁচটিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সীমা কার্যকর হলে দেশে প্রায় চার কোটি সিম নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মোবাইল অপারেটরগুলো। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক ও সামাজিক প্রয়োজনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিমের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি নতুন সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আরও কঠোর যাচাইয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি এনআইডির বিপরীতে নতুন সিম নেওয়ার পর একই এনআইডিতে পরবর্তী সিম নিতে সাত দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এ ছাড়া দুইটির বেশি সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বায়োমেট্রিক তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাস্তাঘাটে বিনামূল্যে সিম কিংবা বিভিন্ন অফারের প্রলোভন দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি গ্রাহকের অজান্তে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। পরে ওই তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন নামে সিম নিবন্ধন এবং সেগুলো আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে সিম নিবন্ধন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি ও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিম নিবন্ধনে আসছে বাড়তি যাচাই
বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, সিম নিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়।
সেখানে ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একজনের নামে সর্বোচ্চ ১০টি সিমের পরিবর্তে পাঁচটি করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে একজন গ্রাহক একটি সিম নিবন্ধনের পর সাত দিনের মধ্যে একই এনআইডিতে আরেকটি সিম নিবন্ধন না করার প্রস্তাবও এসেছে।
দুইটির বেশি সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম এবং পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে অতিরিক্ত যাচাই করার প্রস্তাব রয়েছে।
বন্ধ হতে পারে চার কোটি সিম
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজারের বেশি গ্রাহকের হাতে প্রায় ১৯ কোটি সিম রয়েছে।
অপারেটরদের হিসাবে, একজনের নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি সিম রাখার নিয়ম চালু হলে প্রায় চার কোটি সংযোগ নিষ্ক্রিয় করতে হতে পারে।
তবে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কতগুলো সিম বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগেও কমানো হয়েছিল সীমা
একজনের নামে নিবন্ধিত সিমের সর্বোচ্চ সংখ্যা এর আগেও কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এই সীমা ১৫টি থেকে কমিয়ে ১০টি করা হয়।
পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সীমা আরও কমিয়ে পাঁচটি করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সিম নিবন্ধন ও ব্যবহারে কঠোরতা বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।




















