অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এখন পুরোপুরি বন্ধ। স্থানীয় সময় গতকাল রাত থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞাকে কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নির্দেশনায় টিকটকসহ বড় ১০টি প্লাটফর্মকে ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের ব্লক করতে বলা হয়েছে। তা না মানলে ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের হিসাবে প্রায় ১০ লাখ শিশু-কিশোর এ নিয়মের আওতায় পড়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভুল তথ্য ছড়ানো, হয়রানিসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বিবেচনায় এনে এক বছরের বিতর্কের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ সিদ্ধান্তকে দেশটির নাগরিকদের সামাজিক জীবনের জন্য বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আইন কার্যকর হওয়ার আগে অনেক শিশু সামাজিক মাধ্যমে বিদায়বার্তা পোস্ট করেছে। কেউ লিখেছে, এখন আর যোগাযোগ থাকবে না। কেউ বলেছে, ১৬ বছর হলে আবার দেখা হবে। আলবানিজ শিশুদের শীতকালীন ছুটিতে খেলাধুলা, বাদ্যযন্ত্র শেখা বা বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নীতিনির্ধারকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেনমার্ক থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে আগ্রহও দেখিয়েছে। শিশু নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রেও এখন অনেক অভিভাবক এমন নিয়ম চাচ্ছেন।
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের থেকে তাদের তেমন আয় আসে না। তবে এ নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যৎ ব্যবহারকারীদের প্রবাহে বাধা দেবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আগে ৮-১৫ বছর বয়সী ৮৬ শতাংশ শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিল।
তরুণদের একটি অংশ মনে করছে, এ নিষেধাজ্ঞা অনেককে একাকী করে তুলতে পারে। ১৪ বছরের অ্যানি ওয়াং মনে করে, বিশেষ করে যাদের নিজস্ব ছোট কমিউনিটি ছিল, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিছু মানুষের জন্য এ নিয়ম ঠিক থাকলেও কারো কারো মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে বলে জানায় ওয়াং।






















