দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মূল ঘাতকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৭টি সক্রিয় মোবাইল সিম কার্ড। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (NEIR) বা অবৈধ ফোন বন্ধের প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং জনপ্রতি সিম কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকারকে জোরালো তাগিদ দিয়েছে তারা।
তদন্তে যা মিলল: তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীরা একাধিক অবৈধ হ্যান্ডসেট এবং বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড ব্যবহার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এই ১৭টি সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় অবস্থান পরিবর্তন ও পরিকল্পনার সমন্বয় করেছে। গোয়েন্দাদের মতে, যদি এনইআইআর ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর থাকত এবং অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ থাকত, তবে ঘাতককে ট্র্যাকিং করা অনেক সহজ হতো।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান: বিটিআরসি ভবনে অবৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলার পর পুলিশ ও র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধীদের সুরক্ষার কোনো সুযোগ নেই। তারা বলছেন, এনইআইআর কেবল রাজস্ব আদায়ের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “একজন ব্যক্তির নামে ১৭টি বা তারও বেশি সিম থাকা এবং সেগুলো অবৈধ ফোনে ব্যবহার করা অপরাধের বড় হাতিয়ার। আমরা বিটিআরসিকে স্পষ্ট বলেছি, জননিরাপত্তার স্বার্থে এনইআইআর বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।”
সিম সংখ্যা কমানোর তাগিদ: বর্তমানে একজন নাগরিকের নামে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কার্ড রাখার সুযোগ থাকলেও, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই সংখ্যা এক অঙ্কে (৫টি বা তার নিচে) নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, ডিজিটাল অপরাধ ও কিলিং মিশনে একাধিক সিমের ব্যবহার দমনে এই কঠোর ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
বিটিআরসিতে হামলার মূল কারণ কি এটাই? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনইআইআর চালু হলে অপরাধীদের জন্য বেনামি বা অবৈধ ফোন ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর এই কারণেই অবৈধ ফোন ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটটি মরিয়া হয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলা চালিয়েছে। তারা আসলে অপরাধীদের ব্যবহৃত অবৈধ ফোনের বাজারটি টিকিয়ে রাখতে চায়।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা এনইআইআর সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া থেকে এক চুলও নড়বে না।





















