স্মার্টফোনের বাজারে ভাঁজ করা বা ফোল্ডেবল ফোনের বিপ্লবে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল দক্ষিণ কোরীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড এবং ফ্লিপ সিরিজের সাফল্যের পর কোম্পানিটি এবার নিয়ে এসেছে বিশ্বের প্রথম তিন ভাঁজের স্মার্টফোন ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্রাই-ফোল্ড’ (Samsung Galaxy TriFold)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল ৩০ জানুয়ারি থেকে আমেরিকার বাজারে ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
এক ফোনে তিন পর্দা: পকেটে ফোন, হাতে ট্যাবলেট
গ্যালাক্সি ট্রাই-ফোল্ডের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর তিনটি প্যানেল। তিনটি পর্দা যখন পুরোপুরি খোলা হয়, তখন এটি একটি দানবীয় ১০ ইঞ্চি ডিসপ্লেতে রূপ নেয়, যা বাজারে থাকা দামী ট্যাবলেটগুলোর (যেমন গ্যালাক্সি ট্যাব) সমান। আবার যখন এটি ভাঁজ করা হয়, তখন এটি একটি সাধারণ ৬.৫ ইঞ্চির স্মার্টফোনে পরিণত হয়। অর্থাৎ একই ডিভাইসে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের স্বাদ পাবেন ব্যবহারকারীরা।
শক্তির আধার ৫,৬০০ mAh ব্যাটারি
কারিগরি বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি স্যামসাংয়ের এযাবৎকালের অন্যতম শক্তিশালী ডিভাইস।
ডিসপ্লে: ভেতরে ১০ ইঞ্চি এবং বাইরে ৬.৫ ইঞ্চি কভার ডিসপ্লে।
ব্যাটারি: ফোনটিতে ৫,৬০০ mAh-এর বিশাল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা জেড ফোল্ড ৭-এর তুলনায় ১,২০০ mAh বেশি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এটি তিনটি আলাদা সেলে বিভক্ত।
পুরুত্ব: তিন ভাঁজের ফোন হওয়ায় এটি সাধারণ ফোনের চেয়ে কিছুটা মোটা। ভাঁজ করা অবস্থায় এর পুরুত্ব ১২.৯ মিলিমিটার।
দাম আকাশছোঁয়া, তবুও ব্যাপক উন্মাদনা
প্রযুক্তির এই বিস্ময় হাতে পেতে ক্রেতাদের পকেট থেকে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে। আমেরিকার বাজারে এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৯০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি)। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফোনটি লঞ্চ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব স্টক শেষ হয়ে যায়, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে দাম বেশি হলেও প্রযুক্তিপ্রেমীদের মাঝে এর চাহিদা তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
প্রাথমিক রিভিউগুলোতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যারা বড় স্ক্রিনে মাল্টি-টাস্কিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ হতে পারে। তবে উচ্চমূল্য এবং কিছুটা বাড়তি পুরুত্ব সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





















