দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা বিমানবাহী রণতরীগুলো এখন এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, চীনের অত্যাধুনিক হাইপারসোনিক মিসাইল মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই আমেরিকার ১০টি প্রধান রণতরী ধ্বংস করার সক্ষমতা রাখে। শব্দের চেয়ে বহুগুণ দ্রুতগামী এই মরণাস্ত্রগুলোর মোকাবিলায় বর্তমানে আমেরিকার হাতে কোনো কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
রণতরী: শক্তির প্রতীক যখন লক্ষ্যবস্তু
পিট হেগসেথের মতে, কয়েক দশক ধরে বিমানবাহী রণতরীগুলো ছিল আমেরিকার বৈশ্বিক শক্তি প্রদর্শনের মূল হাতিয়ার। কিন্তু চীনের নতুন প্রজন্মের মিসাইল, বিশেষ করে DF-17 এবং DF-27, এই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এই মিসাইলগুলো বায়ুমণ্ডলের এমন উচ্চতা দিয়ে এবং এমন কৌশলে উড়ে আসে যে, বর্তমান মার্কিন রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলো শনাক্ত বা ধ্বংস করতে সক্ষম হচ্ছে না।
গাণিতিক হুমকি ও পেন্টাগনের দুশ্চিন্তা
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি চীন যুদ্ধের শুরুতে মাত্র ১৫টি হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয়, তবে সেগুলো নিখুঁত নিশানায় মার্কিন সুপার-ক্যারিয়ারগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। এই ঝটিকা আক্রমণ ঠেকাতে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে সময় থাকবে অত্যন্ত কম। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক ‘ওয়ার গেম’ বা যুদ্ধ মহড়াতেও দেখা গেছে, হাইপারসোনিক আক্রমণের মুখে মার্কিন নৌবাহিনী বড় ধরণের পরাজয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
ইরান ও চীনা প্রযুক্তির যোগসূত্র
আপনার দেওয়া এই তথ্যটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে যে, চীনের এই হাইপারসোনিক প্রযুক্তি ইরানের হাতেও থাকতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তাদের ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের মিসাইলগুলোকে হাইপারসোনিক হিসেবে দাবি করে আসছে। যদি ইরানের হাতে সত্যিই চীনের সমমানের প্রযুক্তি থাকে, তবে পারস্য উপসাগর এবং জর্ডানে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
২০২৬ সালে এসে এটি স্পষ্ট যে, সমরক্ষেত্রে হাইপারসোনিক প্রযুক্তি একটি ‘গেম চেঞ্জার’। পিট হেগসেথের এই স্বীকারোক্তি আসলে আমেরিকার সামরিক কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এখন প্রশ্ন হলো, আমেরিকা কি এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের ‘গোল্ডেন ডোম’ বা নতুন কোনো লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করতে পারবে, নাকি সমুদ্রের এই বিশাল রণতরীগুলো সত্যিই চীনের জন্য ‘বসা হাঁস’ (Sitting Duck) হয়ে থাকবে?






















