ইরানের রাজধানী তেহরানে মঙ্গলবারের তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং শনিবারের ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এক বিস্ফোরক দাবি করেছে। তাদের মতে, এই হামলাগুলো কেবল ইসরায়েলি বাহিনী নয়, বরং সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) পরিচালনা করেছে।
১. মার্কিন সম্পৃক্ততার নেপথ্যে কারণ
ইসরায়েলি মিডিয়াগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন S-300 বা Bavar-373) ভেদ করতে মার্কিন B-2 Spirit Stealth Bomber বা F-22 Raptor-এর মতো উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল, যা এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। জর্ডান এবং কাতার ঘাঁটিতে গত কয়েকদিনের অস্বাভাবিক মার্কিন সামরিক তৎপরতা এই দাবিকে আরও জোরালো করছে।
২. মার্কিন প্রশাসনের কৌশল: ‘লুকানো যুদ্ধ’
পিট হেগসেথের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আমেরিকা সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক বা মিসাইল সক্ষমতাকে চিরতরে নির্মূল করতে এই সরাসরি অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, “ইসরায়েল কেবল সামনের মুখ (Front), কিন্তু নেপথ্যে মূল অপারেশনটি ছিল পেন্টাগনের।”
৩. রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
যদি এটি নিশ্চিত হয় যে আমেরিকা সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে, তবে ওমান সাগরে থাকা রুশ ও চীনা নৌবাহিনী হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
রাশিয়া: ইতিমধ্যে ইরানকে স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স শেয়ার করার কথা জানিয়েছে।
চীন: তাদের ‘ক্যারিয়ার কিলার’ মিসাইল প্রযুক্তি ইরানকে ব্যবহারের সবুজ সংকেত দিতে পারে।
৪. তেহরানের বর্তমান অবস্থা
মঙ্গলবার তেহরানে হওয়া তিনটি বিস্ফোরণের পর আজ শনিবারও শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত—এই খবরটি চাউর হওয়ার পর ইরানের আইআরজিসি (IRGC) তাদের দূরপাল্লার হাইপারসোনিক মিসাইলগুলো মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে তাক করেছে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।
যুগান্তর বিশ্লেষণ: আমেরিকার এই সরাসরি অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। এটি যদি সত্যি হয়, তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ইরাক, সিরিয়া এবং জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ভয়াবহ পাল্টা হামলার মুখে পড়বে।





















