বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রায়হান আসিফ আসাদ। তিনি বলেছেন, দেশের ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সকে শক্তিশালী করতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৬ মে, বুধবার রাজধানীর আইসিটি ভবনের চতুর্থ তলার সম্মেলনকক্ষে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত “ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স: অপারচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা রায়হান আসিফ আসাদ বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্পের পর বাংলাদেশের পরবর্তী বৃহৎ রপ্তানি সম্ভাবনার খাত হতে পারে কর্পোরেট ই-কমার্স। এজন্য আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, সহজ কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে অংশীজনদের আগামী সাত দিনের মধ্যে খাতটির প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। এই সুপারিশের ভিত্তিতে গঠিত টাস্কফোর্স দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করবে।
রায়হান আসিফ আসাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ই-কমার্স খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং বিশেষ করে ডাক বিভাগের সঙ্গে ই-কমার্সের কার্যকর সংযোগ স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ভবিষ্যতে ‘সিঙ্গেল পেমেন্ট আইডি’ এবং বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক একটি সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা ই-কমার্স খাতের অনেক বিদ্যমান জটিলতা দূর করবে।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিজিটাল বাণিজ্যের বিকাশে নীতিগত সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি খাতটির নীতিগত ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, এসএসএল ওয়্যারলেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দারাজ বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক, শপআপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, চালডালের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এবং ডিএইচএলের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার ক্রস-বর্ডার বাণিজ্যে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে মতামত দেন।
এছাড়া প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ই-কমার্স বিভাগের প্রধান, জুয়েল ট্রেডিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আলিবাবার বাংলাদেশ প্রতিনিধি, লাইফ প্লাসের চেয়ারম্যান, খাস ফুডের প্রতিষ্ঠাতা, ই-ফার্মার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ক্লাউড সেভেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আগামি ফিনটেকের প্রতিষ্ঠাতা, মুভঅন টেকনোলজিসের পরিচালক, ল্যাবএইড গ্রুপ, নওরিন মিরর এবং সি-এক্সপ্রেসের অপারেশন প্রধানও আলোচনায় অংশ নেন।
উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক লজিস্টিক ব্যবস্থার দুর্বলতা, উচ্চ ব্যয়, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে সময়ক্ষেপণ, সীমিত পেমেন্ট গেটওয়ে, রিটার্ন ও রিফান্ড ব্যবস্থার জটিলতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ পোস্ট, কাস্টমস, বেসরকারি লজিস্টিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব উঠে আসে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত টাস্কফোর্স দ্রুত কাজ শুরু করলে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নতুন গতি পাবে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।





















