দেশের বাইরে থাকা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা প্রিয় মানুষকে চমকে দিতে চান? জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, উৎসব কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষে ফুল বা উপহার পাঠানোর পাশাপাশি এখন খাবারও পাঠানো যায় খুব সহজে। প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার অর্ডার করে সরাসরি প্রিয়জনের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য কয়েকটি বিষয় আগে থেকে জেনে রাখা জরুরি।
আন্তর্জাতিক ফুড ডেলিভারি এখন অনেক সহজ
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বড় শহরে অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করা যায়। আপনি বাংলাদেশে বসেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্ডিয়া কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা পরিচিত মানুষের জন্য খাবার পাঠাতে পারেন। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফুড ডেলিভারি অ্যাপ আন্তর্জাতিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে। তাই দেশ পরিবর্তন না করেই অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করা সম্ভব।
প্রথমে জানতে হবে প্রাপকের অবস্থান
অর্ডার দেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক ঠিকানা। প্রিয়জনের বাসার পূর্ণ ঠিকানা, পোস্টাল কোড এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করুন। অনেক দেশে ডেলিভারি কর্মী পৌঁছানোর আগে ফোন করেন। তাই প্রাপকের নম্বর সঠিক থাকা প্রয়োজন। যদি চমক দিতে চান, তাহলে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য বা বন্ধুর সাহায্য নিয়েও ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেন।
স্থানীয় ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ব্যবহার করুন
প্রতিটি দেশে জনপ্রিয় কিছু ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেই দেশের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ডেলিভারি ঠিকানা দিলে আশপাশের রেস্টুরেন্টগুলো দেখা যাবে। এরপর পছন্দের খাবার নির্বাচন করে অনলাইনে আমার যে কোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, যেগুলো বাইরের দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ব্যাংক থেকে, সেটি দিয়ে মূল্য পরিশোধ করলেই অর্ডার সম্পন্ন হবে। অনেক প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করেও খাবার পাঠানোর সুযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পেমেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত করুন
অর্ডারের আগে দেখে নিন প্ল্যাটফর্মটি আন্তর্জাতিক কার্ড গ্রহণ করে কি না। অনেক ক্ষেত্রে ভিসা, মাস্টারকার্ড কিংবা আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড ব্যবহার করা যায়। কিছু সেবায় পেপল, অ্যাপলপে বা গুগলপে-এর মাধ্যমেও অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব। যদি আপনার কার্ড গ্রহণ না করে, তাহলে সেই দেশে থাকা কোনো পরিচিত ব্যক্তির সহায়তায় অর্ডার সম্পন্ন করা যেতে পারে।
সময়ের পার্থক্য মাথায় রাখা কিন্তু জরুরি
এক দেশের সময় আরেক দেশের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকতে পারে। তাই অর্ডার দেওয়ার আগে স্থানীয় সময় অনুযায়ী খাবার পৌঁছানোর সময় নির্ধারণ করুন। রাত গভীর বা রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকার সময় অর্ডার দিলে ডেলিভারিতে সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ নির্দেশনা থাকলে লিখে দিন
অনেক প্ল্যাটফর্মে ডেলিভারি ইনস্ট্রাকশনস বা বিশেষ নির্দেশনা লেখার সুযোগ থাকে। সেখানে উল্লেখ করতে পারেন- দরজার সামনে রেখে যেতে হবে কি না, বেল বাজাতে হবে কি না, কোনো নির্দিষ্ট গেট বা প্রবেশপথ ব্যবহার করতে হবে কি না, কিংবা এটি একটি সারপ্রাইজ ডেলিভারি। এতে ডেলিভারি আরও সহজ হয়।
রেস্টুরেন্টের রেটিং দেখে নির্বাচন করুন
সব সময় ভালো রেটিং ও ইতিবাচক রিভিউ রয়েছে এমন রেস্টুরেন্ট থেকে অর্ডার দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে খাবারের মান, প্যাকেজিং এবং সময়মতো ডেলিভারির সম্ভাবনা বেশি থাকে। খুব কম রেটিং বা অভিযোগ বেশি থাকা রেস্টুরেন্ট এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কিংবা আপনার প্রিয় মানুষ কোন রেস্টুরেন্টের কোন পদ খেতে পছন্দ করেন সেই খাবার অর্ডার করত পারেন।
ডেলিভারি ট্র্যাক করতে পারবেন ঘরে বসেই
বেশিরভাগ ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধা থাকে। অর্ডার প্রস্তুত হওয়া থেকে শুরু করে ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দেখা যায়। ফলে প্রয়োজন হলে প্রিয়জনকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিংবা যদি আপনার তথ্য থাকে তাহলে আপনি লাইভ ট্র্যাকিং দেখতে পাবেন।
শুধু পরিচিত ও জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অচেনা লিংক বা অজানা ওয়েবসাইটে কার্ডের তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অর্ডার দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং রেস্টুরেন্টের পরিচিতি যাচাই করে নেওয়া উচিত।



















