সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত অনুমোদনহীন ৩১টি মোবাইল অ্যাপের বিরুদ্ধে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ২৮ আগস্ট, ২০২৬ শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার এসব অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তালিকা প্রকাশ করে সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
বিএফআইইউর কারিগরি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অনুমোদনহীন এসব অ্যাপস স্মার্টফোনে ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্ট, গ্যালারির ছবি, এনআইডি ও অন্যান্য স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত ডেটা সার্ভারে সংরক্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়ের নামে সেই ডেটা ব্যবহার করে গ্রাহকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইলিং, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত তালিকায় থাকা ৩১টি অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, বাংলাদেশে ঋণ কার্যক্রম একটি কঠোর নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ও আইনি কাঠামো ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার কোনো বৈধ অনুমতি নেই। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ২(শ)(৫) এবং ৪ ধারা অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাইবার সুরক্ষার স্বার্থে কোনো প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক বিবরণী কিংবা ডিভাইসের পারমিশন না দেওয়ার পাশাপাশি অগ্রিম প্রসেসিং ফি দাবি করলে তা পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





















