জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ গিগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি বাজেটে বরাদ্দ থাকা ২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহারের পাশাপাশি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্ত করতে আধুনিক অনলাইন গ্রিড ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৯ আগস্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন পিকেএসএফসহ ২২টি ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি এবং আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে এগোচ্ছে সরকার। এ জন্য একটি বিশেষ অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
এই কাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মোট অর্থায়নের ২০ শতাংশ গ্রাহক বা উৎপাদক, আরও ২০ শতাংশ একটি ‘অ্যাগ্রিগেটর’ প্রতিষ্ঠান এবং বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণ হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কার্যকর সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
অর্থায়ন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (BIFFL) ও BIFC-এর মতো প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে বলেও জানান উপদেষ্টা।
গ্রাহক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদক
অনলাইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিতুমীর জানান, এরই মধ্যে ৩০০টির বেশি অনলাইন আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৬৪ টাকা খরচ হয়, সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ১ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা গেলে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকি সাশ্রয় হতে পারে।
গ্রামেও তৈরি হবে কর্মসংস্থান
সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও প্রকৌশলভিত্তিক এই উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার। বিশেষ করে সাইবার গ্রিড ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।






















