মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে নরওয়ের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নরওয়ের ন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ও নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। পুলিশের ভাষ্য, মিয়ানমারে টেলিনরের কার্যক্রম চলাকালে গ্রাহকদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সামরিক সরকারের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক সরকার যখন বেসামরিক জনগোষ্ঠীর একটি অংশের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল, তখন টেলিনর-মিয়ানমারের গ্রাহকদের তথ্য বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বলছে টেলিনর
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে নিজেদের ব্যবসা বিক্রি করে দেয় টেলিনর। ২০২২ সালের মার্চে দেশটিতে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তদন্তের বিষয়ে টেলিনর জানিয়েছে, নরওয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা সহযোগিতা করছে এবং ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করলে মিয়ানমারে তাদের কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল।
টেলিনরের ভাষ্য, ওই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ‘অসম্ভব এক পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়েছিল এবং কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
তথ্য সরবরাহের অভিযোগ
চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনর-মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সামরিক জান্তার রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ফোনকল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল।
ওই তথ্যের কারণে অন্তত একজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়নি।
নজরদারি সরঞ্জাম নিয়েও তদন্ত
শুধু গ্রাহকের তথ্য সরবরাহ নয়, মিয়ানমারে ব্যবসা বিক্রির সময় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নজরদারি সরঞ্জাম হস্তান্তরের অভিযোগও তদন্ত করছে নরওয়ের পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ওই সরঞ্জাম হস্তান্তরের আগে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
মিয়ানমারবিষয়ক অধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াদানার মং রয়টার্সকে বলেন, টেলিনরের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নজরদারি সরঞ্জাম হস্তান্তর এবং সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্য বিনিময়ের অভিযোগের বিষয়ে তারা তদন্তকারীদের কাছে তথ্য দিয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে টেলিনরের কর্মকাণ্ডের ফলে মানুষের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি তারা দেখতে চান।
অভিযোগের বিষয়ে টেলিনরের পাশাপাশি অসলোতে মিয়ানমার দূতাবাসের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




















