পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির সাম্প্রতিক অর্ধ-বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত লোকসান আড়াল করে মুনাফা দেখানো, প্রভিশন ঘাটতি রেখে হিসাব সাজানো এবং পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত নিয়ম উপেক্ষা করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
লোকসান আড়াল করে মুনাফা দেখানো
ব্যাংকের অর্ধ-বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে (৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দেখানো হয়েছে ৯৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ৮৩ পয়সা। অথচ প্রকৃত হিসেবে ব্যাংকটির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং শেয়ার প্রতি লোকসান ৬ টাকা ১২ পয়সা।
প্রভিশন ঘাটতি
ব্যাংকটির এ সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রয়োজন ছিল ৯৯১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা প্রভিশন। কিন্তু প্রভিশন রাখা হয়েছে মাত্র ১০০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৯১ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রভিশন ঘাটতি পূরণ না করলে শেয়ারহোল্ডাররা বিভ্রান্ত হয় এবং প্রকৃত ঝুঁকি আড়ালে থাকে।
শেয়ার দর বৃদ্ধি
প্রকৃত লোকসান গোপন রাখার ফলে শেয়ার বাজারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হয়েছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুলাই ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ১৭ টাকা ৪ পয়সা। একদিনের ব্যবধানে ৩১ জুলাই তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৮ পয়সা, যা প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরিমানা
নগদ জমা (সিআরআর) সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির ওপর ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা দণ্ড সুদ আরোপ করেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এ ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে জরিমানার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত সিএফও কামাল হোসাইন।
বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য
১৯৯৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে ব্যাংকটির পরিচালকদের হাতে শেয়ার রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী এ হার সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ হওয়া বাধ্যতামূলক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি এ বিষয়ে নির্দেশ দিলেও ব্যাংকটি তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মত
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আর্থিক প্রতিবেদন অস্বচ্ছ হলে ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারে থাকে। এতে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিক্রিয়া
বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। কেন এমন হলো সে বিষয়ে দেখে প্রাইমারি রেগুলেটর বাংলাদেশ ব্যাংককে পদক্ষেপ নিতে বলব।”



















