একেকটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক তথ্য ফাঁস হয়। যেমন নাম, ঠিকানা, পাসওয়ার্ডসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য ইত্যাদি। এগুলোর প্রতিটিকে আলাদা আলাদা তথ্য হিসেবে বিবেচনার ভিত্তিতে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি সার্ফশার্ক জানিয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে দুই দশকে অনলাইন থেকে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডাটা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। খবর টেক রাডার।
সংস্থাটি বলছে, গত দুই দশকে ডাটা ব্রিচ থেকে ফাঁস হওয়া হাজার কোটি ব্যক্তিগত তথ্য এখনো সাইবার অপরাধীদের হাতে রয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে হ্যাকাররা এসব তথ্য একত্র করে প্রতিটি ব্যক্তির একটি সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত ‘ডিজিটাল কপি’ বা ডোপেলগ্যাংগার তৈরি করছে। ফলে অনলাইনে যেকোনো ব্যক্তির বিস্তারিত প্রোফাইল বানিয়ে প্রতারণা, পরিচয় চুরি বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলা করা সহজ হয়ে উঠেছে।
পাশাপাশি আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে গড়ে ৩৪০ কোটি ফিশিং ই-মেইল পাঠানো হয় ব্যবহারকারীদের কাছে। ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ৩০০ কোটির বেশি ই-মেইল ঠিকানা ফাঁস হয়েছে।
১৬০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করা সার্ফশার্কের গবেষণায় দেখা গেছে, একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অনেক ধরনের ব্যক্তিগত তথ্যও ফাঁস হয়ে যায়। যেমন ওই ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল ইত্যাদি। সার্ফশার্কের তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি ফাঁস হওয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে গড়ে ২ দশমিক ৮টি অতিরিক্ত তথ্যও ফাঁস হয়ে যায়। ফলে আর্থিক প্রতারণা বাড়ার সঙ্গে গোপনীয়তারও বড় ক্ষতি হতে পারে।
সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানটি আরো জানিয়েছে, ২০২৩ সালে যেখানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭৩ কোটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক ও তথ্য ফাঁস হয়েছিল, সেখানে গত বছর সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ কোটিতে, অর্থাৎ প্রায় আট গুণ। গড়ে প্রতি সেকেন্ডে ১৮০টির মতো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বছরজুড়ে।
তথ্য ফাঁস একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৪৫০ কোটি অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে, যার সঙ্গে আছে প্রায় দুই হাজার কোটি ব্যক্তিগত তথ্য। এছাড়া পাসওয়ার্ড ফাঁসের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে রাশিয়া। গত বছর বিশ্বব্যাপী অনলাইন-ভিত্তিক তথ্য ফাঁসের প্রায় অর্ধেক ঘটনা চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ঘটেছে। তবে অন্য কোনো দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের মতো ব্যাপক তথ্য ফাঁসের প্রমাণ দেখা যায়নি।
গবেষণা বলছে, সবচেয়ে বেশি ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে আছে পাসওয়ার্ড, যা মোট ডাটা ব্রিচের প্রায় ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর আছে ব্যক্তিগত তথ্য (২৮ দশমিক ৮ শতাংশ), যার মধ্যে রয়েছে পূর্ণ নাম, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ও ফোন নম্বর। এরপর তৃতীয় সর্বাধিক ফাঁস হওয়া তথ্য হলো অবস্থানগত তথ্য (২২ দশমিক ৯ শতাংশ)। এতে বাড়ির ঠিকানা থেকে শুরু করে আইপি-ভিত্তিক অবস্থান পর্যন্ত সবকিছু অন্তর্ভুক্ত।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকারদের কৌশলও উন্নত ও বিপজ্জনক হচ্ছে। ফলে আজকের উন্নত প্রযুক্তির যুগেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল হয়ে পড়েছে।






















