সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি দেখা দিলেও ভিন্ন কথা বলছে সরকারি তথ্য। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে বর্তমানে তাদের ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি অকটেন মজুত রয়েছে। যা দিয়ে অন্তত ৪৫ দিন এবং দেশীয় উৎপাদন মিলিয়ে ৭৮ দিন চলা সম্ভব। তবুও কেন মাঠ পর্যায়ে এই হাহাকার, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।
মজুত আছে সক্ষমতার চেয়েও বেশি
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৪২ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন অকটেন মজুত রাখার সক্ষমতা থাকলেও হাতে আছে তার চেয়েও বেশি জ্বালানি। চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়া থেকে আসা ৫৪ হাজার টন অকটেন খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
মজুত পরিস্থিতি: ২০ এপ্রিল সকালে মজুত ছিল ২৭,৬১২ টন।
সরবরাহ ক্ষমতা: বর্তমান মজুত দিয়ে ৪৫ দিন এবং বেসরকারি প্ল্যান্টের সরবরাহসহ মোট ৭৮ দিন চলা সম্ভব।
বিপিসির উদ্যোগ: সংকট কাটাতে সোমবার থেকে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং ডিজেল-পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিপিসি।
বিপিসি বনাম সুপার পেট্রোকেমিক্যাল: অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
বেসরকারি ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট সুপার পেট্রোকেমিক্যাল (SPL) অভিযোগ করেছে যে, তাদের উৎপাদিত জ্বালানি বিপিসি সময়মতো গ্রহণ করছে না। চিঠিতে তারা জানায়, ৮ এপ্রিল থেকে মার্কেটিং কোম্পানিগুলো তেল নিতে অপারগতা প্রকাশ করছে, যার ফলে তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে বিপিসি এই অভিযোগকে ‘সাবোটাজ’ বা ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিপিসির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় এ মাসে বেশি দামে তেল বিক্রির সুবিধা নিতে চাইছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের তুলনায় এ বছর তাদের কাছ থেকে অনেক বেশি তেল গ্রহণ করা হয়েছে বলেও দাবি করে বিপিসি।
তেলের নতুন দাম (১৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর)
ব্যয়ের চাপ সামলাতে সরকার লিটারপ্রতি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে:
অকটেন: ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা।
পেট্রোল: ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা।
ডিজেল: ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা।
কেরোসিন: ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা।
বিশেষজ্ঞ মতামত: প্যানিক কমাতে সরবরাহ অবারিত করার পরামর্শ
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, “যেহেতু স্টোরেজ সক্ষমতার চেয়ে বেশি তেল হাতে আছে এবং দামও বাড়ানো হয়েছে, তাই এখন পাম্পগুলোতে সরবরাহ অবারিত করে দেওয়া উচিত। সরবরাহ বাড়লে মানুষের মধ্য থেকে জমানোর প্রবণতা এবং প্যানিক বা আতঙ্ক কমে যাবে।”



















