শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট নিষিদ্ধ করার পর এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নরওয়ে সরকার। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুরা যাতে তাদের শিক্ষার প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো ফাঁকি দিতে না পারে, সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে শিশুরা পড়াশোনার মূল ভিত্তিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই স্কুলগুলোর এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুদের নিজে থেকে “পড়তে, লিখতে এবং গণিত চর্চা করতে” শেখানো।
আগামী আগস্ট মাসের শেষের দিকে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। তবে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে। ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সীরা কেবল শিক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে শিক্ষামূলক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে পারবে এবং ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সীদের এটি নিজ দায়িত্বে সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রযুক্তি সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নরওয়ের এমন পদক্ষেপ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৪ সালে দেশটি স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল, যা অত্যন্ত সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে। স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার ফলে স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা কমেছে, পরীক্ষার ফলাফলে উন্নতি হয়েছে এবং মানসিক সমস্যার কারণে মনস্তত্ত্ববিদদের কাছে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে; বিশেষ করে ছাত্রীদের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার আদলে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করারও পরিকল্পনা করছে নরওয়ে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটির সংসদে এই সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।




















