সিলেটের শীর্ষস্থানীয় পাথর ও কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
সিআইসির অভিযোগ-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দুই ধাপে প্রায় ৬০ কোটি টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে। প্রথমত, ব্যক্তিগত নামে পাথর ও কয়লা আমদানি করে সেই আয় অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের নামে দেখিয়ে সারচার্জ ও জরিমানা বাবদ প্রায় ৫১ কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ঢাকা ও এর আশেপাশে বিভিন্ন সম্পত্তিতে করা বিনিয়োগের প্রকৃত তথ্য গোপন করার মাধ্যমে আরও ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জমি কিনে স্পোর্টস কমপ্লেক্স থেকে ভাড়া আদায়, গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দামি গাড়ি এবং কমার্শিয়াল স্পেস ক্রয়ের তথ্য গোপন করা।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ ও তার ছেলে ফখরুস সালেহীন নাহিয়ান দুবাইয়ের জুমেইরাহ ভিলেজ সার্কেলে নির্মাণাধীন ৩৩ তলা বিলাসবহুল ভবন ‘স্যাফায়ার ৩২’-এ বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। ২২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট বিশিষ্ট এই ভবনে বিনিয়োগের কোনো তথ্য তাদের আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই, যা দেশ থেকে অর্থ পাচারের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে। সিআইসির কর্মকর্তারা জানান, তাদের একটি গোয়েন্দা দল সম্প্রতি দুবাই সফর করে এই বিনিয়োগের তথ্য পেয়েছে।
তবে অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফখর উদ্দিনের ছেলে ফখরুস সালেহীন নাহিয়ান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের কোনো কর ফাঁকি হয়নি এবং বিদেশেও কোনো অর্থপাচার করে বিনিয়োগ করা হয়নি।”
সারচার্জ ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, “যে আয়ের ওপর সারচার্জ ধরা হয়েছে, তা আমাদের পার্টনারশিপ ফার্মের, কোনো ব্যক্তির নয়। ফলে এর ওপর সারচার্জ হতে পারে না।”
দুবাইয়ে বিনিয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে নাহিয়ান দাবি করেন, “আলোচ্য প্রজেক্টটি আমাদের মিশরের এক বন্ধুর। ওই প্রজেক্টের অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে দিতে পারলে আমাদেরকে ১৩ শতাংশ কমিশন দেওয়া হবে বলে চুক্তি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখান থেকে আমাদের কোনো আয় হয়নি।”
যদিও সিআইসির একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, দুবাইয়ের ওই প্রকল্পের বিনিয়োগকারীদের তালিকায় ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ এবং ফখরুস সালেহীন নাহিয়ানের নাম রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে সিলেটের পাথর ও কয়লার ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে সিআইসি প্রতিষ্ঠানটির অর্থপাচারের মোট পরিমাণ নির্ধারণে কাজ করছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।


















