অনেকেই স্মার্টফোনকে কেবল কল করা, মেসেজ পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি ডিভাইস হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে আধুনিক স্মার্টফোনে থাকা বিভিন্ন সেন্সর এটিকে একটি ছোট্ট বহুমুখী টুলবক্সে পরিণত করেছে। এই সেন্সরগুলোর সাহায্যে দৈনন্দিন জীবনের অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সহজেই করা সম্ভব-অনেক ক্ষেত্রে আলাদা যন্ত্র ছাড়াই।
গতি ও ভারসাম্য মাপার সুবিধা
স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সিলেরোমিটার এবং জাইরোস্কোপ মূলত ডিভাইসের নড়াচড়া ও ঝোঁক নির্ণয় করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফোনকে সহজেই একটি ডিজিটাল স্পিরিট লেভার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ফলে ঘরের দেয়ালে ছবি সোজা করে ঝোলানো, আসবাবপত্র সমানভাবে বসানো বা কোনো পৃষ্ঠের ভারসাম্য পরীক্ষা করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
শব্দের মাত্রা জানা এখন সহজ
ফোনের মাইক্রোফোন শুধু কল বা রেকর্ডিংয়ের জন্য নয়, এটি আশপাশের শব্দের তীব্রতা বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম। এর মাধ্যমে কোনো স্থানের শব্দ দূষণের মাত্রা বোঝা যায় কিংবা কোনো পরিবেশ কাজ বা পড়াশোনার জন্য কতটা শান্ত, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
দিক নির্ণয় ও ধাতু শনাক্তকরণ
স্মার্টফোনের ম্যাগনেটোমিটার সেন্সর সাধারণত নেভিগেশনের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি কম্পাসের মতো কাজ করে সঠিক দিক নির্দেশ দিতে পারে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে এটি মেটাল ডিটেক্টরের মতো কাজ করে দেয়ালে লুকানো ধাতব পাইপ বা তার শনাক্ত করতেও সাহায্য করে।
উচ্চতা ও বায়ুচাপ পরিমাপ
যেসব ফোনে ব্যারোমিটার থাকে, সেগুলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে পারে। এই তথ্য ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা অনুমান করা সম্ভব। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা ভ্রমণ বা ট্রেকিংয়ের সময় এটি খুবই কার্যকর একটি ফিচার।
আলো ও দূরত্ব শনাক্তকরণ সেন্সর
প্রক্সিমিটি সেন্সর কলের সময় স্ক্রিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেয়, আর অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর চারপাশের আলো অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করে। এই দুই সেন্সরের সাহায্যে ঘরের আলো কতটা উপযুক্ত, তা বোঝা যায় এবং ইনডোর গাছ বা অন্যান্য সংবেদনশীল জিনিস রাখার সঠিক জায়গা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
লিডার (LiDAR) প্রযুক্তি দিয়ে নির্ভুল মাপজোক
উন্নত স্মার্টফোন, বিশেষ করে কিছু প্রিমিয়াম ডিভাইসে থাকা লিডার স্ক্যানার পরিবেশের গভীরতা ও দূরত্ব অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে পারে। এর মাধ্যমে মেজারিং টেপ ছাড়াই ঘরের আয়তন, বস্তুর দূরত্ব বা এমনকি কোনো মানুষের উচ্চতাও নির্ভুলভাবে মাপা সম্ভব।
এছাড়া এই প্রযুক্তির সাহায্যে থ্রিডি স্ক্যানিং করে বাস্তব বস্তুর ডিজিটাল মডেল তৈরি করার সুযোগও তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের ডিজাইন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।




















