অনলাইনে ৩৬ হাজার টাকা দামে স্পিকার অর্ডার করে পরে পণ্য নিতে গিয়ে ৪২ হাজার টাকা দাম চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রায়ান্স কম্পিউটারের বিরুদ্ধে। হিমেল সরকার নামে এক ক্রেতা এ অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, একাধিকবার পণ্যের দাম নিশ্চিত হওয়ার পরও অর্ডার গ্রহণ করে পরে নির্ধারিত দামে পণ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
হিমেল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১০ আগস্ট রায়ান্স কম্পিউটারের ওয়েবসাইটে একটি স্পিকার অর্ডার করেন তিনি। তার অর্ডার নম্বর 338030।
অভিযোগকারী জানান, স্পিকারটির নিয়মিত মূল্য ছিল ৪২ হাজার টাকা। তবে ১০ আগস্ট অনলাইনে পণ্যটির মূল্য ৩৬ হাজার টাকা দেখানো হচ্ছিল। দাম নিয়ে নিশ্চিত হতে অর্ডার করার আগে রায়ান্স কম্পিউটারে ফোন করেন তিনি। ফোনে তাকে জানানো হয়, ওই সময় বিশেষ অফারের কারণে স্পিকারটি ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এরপর তিনি ৩৬ হাজার টাকা মূল্যেই অর্ডারটি নিশ্চিত করেন বলে দাবি করেন হিমেল।
‘পণ্য প্রস্তুত, শোরুম থেকে নিয়ে যান’
হিমেল সরকারের ভাষ্য, অর্ডার করার পরদিন রায়ান্স কম্পিউটার থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার পণ্য প্রস্তুত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে ব্যস্ততা এবং জরুরি কাজে ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় তখন তিনি পণ্যটি সংগ্রহ করতে পারেননি।
পরে ১৭ আগস্ট রায়ান্স কম্পিউটারের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন তিনি। তখন তাকে জানানো হয়, পণ্যটি এখনো শোরুমে রাখা আছে এবং তিনি চাইলে নিয়ে যেতে পারবেন।
হিমেলের দাবি, এ সময়ও তাকে জানানো হয়েছিল যে অর্ডারের সময় নির্ধারিত ৩৬ হাজার টাকা মূল্যেই পণ্যটি দেওয়া হবে।
পণ্য নিতে গিয়ে ‘দাম নিয়ে সমস্যা’
অভিযোগকারী বলেন, পরবর্তী সময়ে পণ্যটি সংগ্রহ করতে শোরুমে গেলে তাকে পণ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। তখন তাকে বলা হয়, পণ্যের মূল্য নিয়ে কোনো একটি সমস্যা রয়েছে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, ৩৬ হাজার টাকায় স্পিকারটি দেওয়া সম্ভব নয়। পণ্যটির বর্তমান মূল্য ৪২ হাজার টাকা বলে তাকে জানানো হয়।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে হিমেল সরকার বলেন, অর্ডার নেওয়ার আগে তিনি একাধিকবার পণ্যের দাম নিশ্চিত করেছেন। এমনকি পণ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ার আগেও রায়ান্স কম্পিউটারে ফোন করে পণ্য প্রস্তুত আছে কি না জানতে চেয়েছেন। তখন পণ্য প্রস্তুত থাকার কথা জানানো হলেও দাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাকে কিছু বলা হয়নি।
‘তাহলে অর্ডার কনফার্ম করা হলো কেন?’
হিমেল সরকারের প্রশ্ন, যদি ৩৬ হাজার টাকায় পণ্যটি বিক্রি করার সুযোগ না থাকে, তাহলে তার অর্ডার ওই দামে কনফার্ম করা হলো কেন?
তিনি বলেন, ‘আমি তো বারবার প্রোডাক্টের প্রাইস কনফার্ম করেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্ডার দিয়েছি। প্রোডাক্ট নিতে যাওয়ার আগেও ফোন করে জেনেছি প্রোডাক্ট রেডি আছে কি না। তখন তারা বলেছে প্রোডাক্ট রেডি আছে। কিন্তু দামের বিষয়ে কোনো কথা বলেনি।’
তার অভিযোগ, এভাবে অর্ডার নেওয়ার পর ক্রেতাকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য করা হলে সেটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার শামিল হতে পারে।
নিজের অভিযোগের সমর্থনে অর্ডারসংক্রান্ত তথ্য, যোগাযোগের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট রয়েছে বলে দাবি করেছেন হিমেল সরকার। তিনি বিষয়টি যাচাই করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি ভোক্তাদের সঙ্গে বাটপারি করা হয়, তাহলে বিষয়টি কেমন হয়? আমি সকল তথ্য-ডকুমেন্ট দিচ্ছি। আপনারা দেখেন।’




















