অপর্যাপ্ত আসন ও আলো বাতাসসহ নানা নানা সমস্যায় জর্জরিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জব কর্নার। ফলে এক প্রকার গাদাগাদি করেই জব কর্নারে বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এসব সংকট নিরসনে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রন্থাগারের পাশেই নতুন জব কর্নার হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদশা ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০০টি আসন রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য জব কর্নার স্থাপন করে প্রশাসন। এতে বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতি নিতে নিয়মিত পাঠদান করেন শিক্ষার্থীরা। তবে জব কর্নারে অপর্যাপ্ত আসন, এসি না থাকার পাশাপাশি সিলিং ফ্যানের অপ্রতুলতায় গরমে বিপাকে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, জব কর্নারে পর্যাপ্ত আসন নেই। আলো বাতাসের অভাব। আসন সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। আবার অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষা শেষেও সিট পান না শিক্ষার্থীরা। এতে অনেক শিক্ষার্থীকে কর্নারের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, জব কর্নারের বিপরীত পাশে ডিজিটাল সেন্টার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝে মাঝে মিটিং ব্যতীত সর্বদা তালা দেওয়া থাকে বলে জানা যায়।
লাইব্রেরিতে পড়তে যাওয়া ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা যারা চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরির জব কর্নার আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এখানে আমরা সারাদিন একটানা পড়াশোনা করতে পারি। ইদানীং জব কর্নারে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। আবার গরমের মৌসুমে প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর। আশা করি, প্রশাসন অতিদ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরেক শিক্ষার্থী বেবী খাতুন জানান, আমাদের লাইব্রেরির জব কর্নারে শিক্ষার্থীদের তুলনায় আসন সংখ্যা কম। সিট ধরার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মাঝেমধ্যে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। খাবার খেতে কোনো শিক্ষার্থী যদি বাহিরে যায়, এসে আর সিট পায় না। তার ওপর লাইব্রেরির ভেতর নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা। এসির ব্যবস্থা নেই আবার সিলিং ফ্যানের সংখ্যাও কম। এই তীব্র গরমে পড়তে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমস্যাগুলো বিবেচনা করলে আমরা যারা লাইব্রেরিতে পড়তে আসি তাদের অনেক উপকার হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক খন্দকার আব্দুল মজিদ বলেন, ৫ আগস্টের পরে জব কর্নার চালু করা হয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে জব কর্নারে সিট বৃদ্ধি করাও সম্ভব না। সিলিং ফ্যান যথেষ্ট সংখ্যক আছে। আমরা চেষ্টা করি শিক্ষার্থী ভাইদের কল্যাণে কাজ করার জন্য। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশেই নতুন জব কর্নার হতে পারে।






















