বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের শ্রমিক ইউনিয়ন আগামী মাসে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
তবে এ কর্মবিরতি কার্যকর হলে কেবল উৎপাদনই ব্যাহত হবে না, বরং বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্যামসাংয়ের ওপর গ্রাহকদের আস্থাও চিরতরে নষ্ট হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেতন বাড়ানোর দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোম্পানিটির চিপ কারখানার সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন হাজার হাজার কর্মী। দাবি না মানলে বড় ধরনের ধর্মঘটের হুমকি দেন তারা।
সিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সং হিয়ন-জে এক সেমিনারে জানান, স্যামসাংয়ের চিপ কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে প্রতি মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির কয়েক কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে। তার হিসাবে একদিনের ধর্মঘটে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ওন বা ৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের লোকসান হতে পারে প্রতিষ্ঠানের। আর যদি ধর্মঘট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিপ ব্যবসার পরিচালন মুনাফা থেকে ১০ ট্রিলিয়ন ওন পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর পাশাপাশি আছে আস্থার সংকট ও বড় গ্রাহক হারানোর ভয়। অধ্যাপক সং মনে করেন, আর্থিক ক্ষতির চেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বিশ্ববাজারে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে স্যামসাংয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ শিল্পে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এনভিডিয়া বা এএমডির মতো বড় বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামালের জন্য স্যামসাংয়ের ওপর নির্ভরশীল। স্যামসাংয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে গ্রাহকরা বিকল্প হিসেবে টিএসএমসির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
অধ্যাপক সং বলেন, ‘চিপ শিল্পে একবার গ্রাহক হাতছাড়া হলে তাদের ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল।’
স্যামসাংয়ের যৌথ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটি আগামী ২১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সাধারণ ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলো হলো পারফরম্যান্স বোনাস বা কাজের ওপর ভিত্তি করে দেয়া অতিরিক্ত ভাতার ঊর্ধ্বসীমা বাতিল করা, বোনাস নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা আনা ও বার্ষিক মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে দেয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতি।
বর্তমানে এআই চিপের বাজারে আধিপত্য বিস্তারে লড়ছে এনভিডিয়া, টিএসএমসি ও ইন্টেল। অধ্যাপক সং সতর্ক করে বলেন, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এমন একটি খাত যেখানে মাত্র এক বা দুই বছর পিছিয়ে পড়লে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পরিকল্পিত ধর্মঘটের প্রথম দিনে সিউলের ইয়ংসান-গু এলাকায় স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ংয়ের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যদি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় তবে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটি হবে স্যামসাংয়ের দ্বিতীয় সাধারণ ধর্মঘট। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২৫ দিনের একটি কর্মবিরতির মুখে পড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সময়মতো সমস্যার সমাধান না হলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামগ্রিক চিপ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে।





















