এবার এ লড়াইয়ে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিল গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এআই স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রোপিক’-এ ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে টেক জায়ান্টটি। খবর রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে দৌড়ে এগিয়ে থাকতে ও অংশীদারত্ব আরো জোরালো করতেই বিশাল অংকের অর্থ ঢালছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, গত শুক্রবার গুগল ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি ডলার। বিপুল এ অর্থ মূলত অ্যানথ্রোপিকের কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা হবে। তবে গুগলের বাকি ৩ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ সরাসরি আসবে না; এটি নির্ভর করবে কোম্পানির নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্লডের পারফরম্যান্সের ওপর।
অ্যানথ্রোপিককে নিয়ে শুধু গুগল নয়, আগ্রহ দেখিয়েছে অ্যামাজনও। কয়েক দিন আগেই ই-কমার্স জায়ান্টটি এ স্টার্টআপে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। মূলত কোডিং বা প্রোগ্রামিংয়ের ওপর ভিত্তি করে মডেল প্রশিক্ষণ দেয়ার কারণে এআই ইন্ডাস্ট্রিতে দ্রুত নাম কামিয়েছে অ্যানথ্রোপিক। কোম্পানির ‘ক্লড কোড’ টুলটি বর্তমানে ডেভেলপারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে অ্যানথ্রোপিকের বার্ষিক আয় ৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এ আয় ছিল মাত্র ৯০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে কোম্পানির আয় কয়েক গুণ বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অ্যানথ্রোপিকের বাজারমূল্য ৮০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করছে অনেক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করছে অ্যানথ্রোপিক। সম্প্রতি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রডকম ও ক্লাউড অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান কোরউইভের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বছরের শেষ নাগাদ অ্যামাজনের চিপ ব্যবহার করে ১ গিগাওয়াট পর্যন্ত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য তাদের।
নিজেদের মডেলগুলোকে আরো উন্নত করতে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। তবে অ্যানথ্রপিকের দ্রুত উত্থান শেয়ারবাজারে অস্থিরতাও তৈরি করেছে। চলতি বছরের শুরুতে অ্যানথ্রোপিকের ‘কাওয়ার্ক’ এজেন্টের কিছু ফিচারের কারণে বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার খাতের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন ঘটে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, এআইয়ের এসব অত্যাধুনিক টুল প্রচলিত সফটওয়্যার বাজারের খোলস বদলে দিতে পারে।



















