চূড়ান্ত উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে দেশের প্রথম পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু হবে। এরপর আগামী জুলাই শেষে অথবা আগস্টের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা যাচাই ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধাপে ধাপে উৎপাদনে যাবে। দুটি ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৩০০-৩৫০ মেগাওয়াট অর্থাৎ সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ শুরুতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পৌঁছতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার (জ্বালানি লোডিং) তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানো হবে।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বলেন, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ সফলভাবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। লিখিত, মৌখিক ও সিমুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা এ লাইসেন্স পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করেছেন রুশ সংস্থা রোস্টেকনাডজর, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান ভিও-সেফটি, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞরা। এ ৫২ জন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ ও রাশিয়ার লাইসেন্সধারী অপারেটরের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন (১ হাজার ২৬৫ কোটি) ডলারের এ প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটি মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা দেশের মোট চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করবে।
















