যুদ্ধের কারণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অন্যতম প্রধান যন্ত্রাংশ ‘প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড’ বা পিসিবি তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সার্ভার পর্যন্ত সব ধরনের ডিভাইসের উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্স।
প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো আশঙ্কা করছে, এ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
শিল্প সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিলে সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার পর থেকেই সংকটের শুরু। এ কেন্দ্রে পিসিবি তৈরির প্রধান উপাদান পিপিই রেজিন উৎপাদন হয়। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ উচ্চমানের পিপিই রেজিন সরবরাহ করে ‘সাবিক’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। যুদ্ধের কারণে এ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে কাঁচামালের তীব্র সংকট তৈরি হয়। এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ সংকট আরো ঘনীভূত হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এপ্রিলেই সার্কিট বোর্ডের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর আগে মেমোরি চিপের বাড়তি দাম নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চাপে ছিল, এখন নতুন করে সার্কিট বোর্ডের এ মূল্যবৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু রেজিন নয়, তামা ও গ্লাস ফাইবারের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দামও গত কয়েক মাসে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সাধারণত একটি সার্কিট বোর্ড তৈরির খরচের ৬০ শতাংশই ব্যয় হয় তামার পেছনে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বড় বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন গ্রাহকদের সঙ্গে পণ্যের নতুন দাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আগে যেখানে কাঁচামাল পেতে তিন সপ্তাহ সময় লাগত, এখন সেখানে ১৫ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরবরাহ সংকটের কারণে এনভিডিয়া বা স্যামসাংয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনের দিনগুলোয় নতুন মডেলের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন কিনতে ক্রেতাদের অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। মূলত যুদ্ধের বহুমুখী প্রভাবে বিশ্ব প্রযুক্তি খাতের সরবরাহ চেইনের এ অচলাবস্থা কাটতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তিবিদরা।


















