বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং জায়ান্ট ওরাকল প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ব্যবসায়িক পুনর্গঠন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি এ প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মী বাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ।
সম্প্রতি প্রকাশিত ওরাকলের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে মোট কর্মী ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার। ওরাকল কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যবস্থাপনা ও পণ্যে পরিবর্তন, কর্মীদের পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ওরাকলকে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। বিদায়ী কর্মীদের সেভারেন্স পে (চাকরিচ্যুতির ক্ষতিপূরণ) ও অন্য খরচ বাবদ প্রতিষ্ঠানটি ১৮৪ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এর আগের অর্থবছরে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারানোর উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছাঁটাইয়ের তথ্য নজরদারি করা ওয়েবসাইট লেঅফসডট এফওয়াইআই জানিয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৯৬টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ১৯ হাজার ৮০০-এর বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে। ওরাকলের এ পদক্ষেপ সে উদ্বেগকে আরো বাড়িয়ে দিল।
ক্লাউড কম্পিউটিং বাজারে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে টেক্কা দিতে ওরাকল সম্প্রতি মেটা ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় চুক্তি করেছে। তবে অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো নিজস্ব তহবিল না থাকায় ওরাকলকে নতুন ঋণ ও শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ ব্যয়ের অর্থ জোগাড় করতে হচ্ছে। চলতি বছর শেয়ারবাজারে ওরাকলের শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরে আরো ৪ হাজার কোটি ডলার ঋণ ও ইকুইটি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।




















