চোরাই ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন জোড়া লাগিয়ে (অ্যাসেম্বল) অপরাধীদের কাছে বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, ট্যাব, ডিসপ্লে ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার মোহাম্মদপুরে র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য তুলে ধরেন উপ-অধিনায়ক নিফাজ রহমান।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মুন্না শেখ (২৯), নাসির উদ্দিন শান্ত (২৬) ও নাসিম (২৮)।
র্যাব বলছে, রাজধানীতে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চোরাই মোবাইল কেনাবেচা চক্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকালে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে পাঁচটি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ১২৬টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ১৬৫টি ব্যবহৃত মোবাইলের ডিসপ্লে, ১৬টি ট্যাব এবং মোবাইল ফোনের ৬৫টি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিফাজ রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে চোর ও ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কিনে সেগুলো কম দামে বিক্রি করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এড়াতে তারা মোবাইল ফোন খুলে যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করতেন। আবার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়েও (অ্যাসেম্বল করে) অপরাধীদের কাছে বেচতেন।
তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করেও অপরাধীদের সহায়তা করতেন, যাতে চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোন শনাক্ত করা কঠিন হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা নিফাজ বলেন, মাঠ পর্যায়ে চোর ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও চোরাই মোবাইল কেনাবেচা চক্রের মূল সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই আড়ালে ছিল। ব্যাচেলর পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। চক্রের আরও সদস্যকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।



















