গুগল সার্চ ইঞ্জিনে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারগুলো শিশুদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘কমন সেন্স মিডিয়ার ইয়ুথ এআই সেফটি ইনস্টিটিউট’ এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের এ নতুন এআই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের আত্মহত্যা ও খাবারের অনীহাজনিত (ইটিং ডিজঅর্ডার) মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি এটি ইন্টারনেটে আপত্তিকর ভুয়া ছবি বা ডিপফেক তৈরির নির্দেশনাও দিচ্ছে। খবর দ্য জাপান টাইমস।
গবেষকেরা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি বিশেষ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এ পরীক্ষা চালিয়েছেন। গুগলের সব ধরনের নিরাপত্তা ফিল্টার সচল রাখার পরও এআই ফিচারগুলো বিপদ চিহ্নিত করতে পারেনি। একটি পরীক্ষায় এআই সিস্টেমটি ইটিং ডিজঅর্ডারের মতো মারাত্মক রোগকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে বর্ণনা করে। অন্য আরেকটি ক্ষেত্রে ডিপফেক ছবি তৈরির পর তা কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া যায়, তার উপায় বাতলে দেয়।
সাধারণ এআই চ্যাটবটগুলোর মতো এটি আলাদা কোনো অ্যাপ নয়। গুগল সার্চের সঙ্গেই এটি সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত ও স্কুলের ডিভাইসে শিশুরা যখনই সাধারণ কোনো কিছু খুঁজছে, তখনই তাদের সামনে এআই ফিচারটি চলে আসছে। বর্তমানে অভিভাবক কিংবা স্কুলের শিক্ষকদের ফিচারটি বন্ধ করার কোনো সুযোগ বা অপশন রাখেনি গুগল।
পরীক্ষামূলকভাবে শিশুরা যেভাবে খোঁজে, ঠিক সেভাবে আড়াই হাজারেরও বেশি তথ্য অনুসন্ধান করেন গবেষকেরা। দেখা গেছে, হোমওয়ার্কের ক্ষেত্রে এ এআই সরাসরি উত্তর দিয়ে দিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি করছে। এছাড়া ইতিহাস সম্পর্কিত একই প্রশ্নের উত্তর একেকবার একেক রকম দিচ্ছে। তাছাড়া প্রায় ২৯ শতাংশ তথ্য নেয়া হয়েছে ফেসবুক বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে।
তবে গুগল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গুগলের একজন মুখপাত্র জানান, এ গবেষণায় এমন কিছু জটিল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ সচরাচর খোঁজে না। তাদের নিজস্ব পরীক্ষায় এমন কোনো ক্ষতিকর তথ্য পাওয়া যায়নি। গুগল ফিচারটি আলাদাভাবে বন্ধ করার সুযোগ না দিলেও অভিভাবকেরা চাইলে শিশুদের অ্যাকাউন্ট থেকে গুগল সার্চ সুবিধাটি পুরোপুরি বন্ধ করে রাখতে পারেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ত্রুটিপূর্ণ প্রযুক্তি কোটি কোটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইন্টারনেটের তথ্য যাচাই করার ক্ষমতা শিশুদের না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।




















