ইন্টারনেট বা মোবাইল ডেটা সংযোগ ছাড়াই যোগাযোগের এক অনন্য মাধ্যম ছিল বিটচ্যাট (Bitchat) অ্যাপ। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ভারত সরকার সম্প্রতি এই অ্যাপটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ছাড়াই বার্তা আদান-প্রদানের সুবিধা থাকায় এই অ্যাপটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিটচ্যাট মূলত ‘ব্লুটুথ মেশ নেটওয়ার্ক’ প্রযুক্তিতে কাজ করে। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, স্মার্টফোনগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে একটি চেইন বা নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বার্তা ও কল আদান-প্রদান করা সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এটি তৈরি করেছিলেন।
অ্যাপটির কার্যকারিতা সম্পর্কে বলতে গেলে, এটি পুরোপুরি ইন্টারনেট-নির্ভর নয়। এর মাধ্যমে প্রেরিত বার্তাগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সংকেতবদ্ধ (এনক্রিপ্টেড) থাকে। বড় পরিসরে অনেক ব্যবহারকারীকে একসঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষমতা থাকলেও এটি ব্যবহার করে সরকারি নজরদারি এড়ানো সম্ভব বলে দাবি করেছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে দাঙ্গা বা অবৈধ সমাবেশ সংগঠিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গিটহাব (GitHub) প্ল্যাটফর্ম থেকে এর সোর্স কোড বা মূল প্রোগ্রাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রযুক্তিবিদ ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, এমন অ্যাপ ইন্টারনেট বন্ধের মতো পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের বড় ভরসা হতে পারে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনগত নজরদারি বজায় রাখাকেই বিভিন্ন দেশের সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারত সরকারের নির্দেশের পর এই অ্যাপটির ভবিষ্যৎ এবং এর ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।




















