পুরোনো স্মার্টফোন এখন আর শুধু ফেলে দেওয়ার বস্তু নয়, এগুলো দিয়েই তৈরি হতে পারে ছোট আকারের ডাটা সেন্টার। এমনই এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান দিয়েগোর গবেষকরা। পুরোনো গুগল পিক্সেল ফোনকে পুনরায় ব্যবহার করে কম খরচে কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন তারা।
গুগল রিসার্চের এক ব্লগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষকরা গুগলের সঙ্গে যৌথভাবে বাতিল হওয়া পিক্সেল ফোনের মাদারবোর্ড ব্যবহার করে একটি পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন।
গবেষকদের এই পদ্ধতিতে পুরোনো পিক্সেল ফোন থেকে ডিসপ্লে, ব্যাটারি, কাভার ও স্পিকারের মতো অংশ সরিয়ে শুধু মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর একাধিক মাদারবোর্ড একত্র করে তৈরি করা হচ্ছে ফোন ক্লাস্টার কম্পিউটিং সিস্টেম, যা ছোট আকারের ডাটা সেন্টারের মতো কাজ করবে।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, একটি স্মার্টফোনের কার্বন ফুটপ্রিন্টের প্রায় ৫০ শতাংশের সঙ্গে মাদারবোর্ডের সম্পর্ক রয়েছে। তাই পুরোনো ফোনের গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার পুনর্ব্যবহার করলে ই-বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপও কমবে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০টি পিক্সেল ফোনের মাদারবোর্ড দিয়ে তৈরি একটি ক্লাস্টার প্রায় ৭৫ জন শিক্ষার্থীর একটি শ্রেণির প্রয়োজনীয় শিক্ষা অ্যাপ চালাতে সক্ষম। ভবিষ্যতে ২ হাজার ফোনের মাদারবোর্ড নিয়ে বড় একটি কম্পিউটিং ক্লাস্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা একই সময়ে প্রায় ১০০টি শ্রেণির জন্য সেবা দিতে পারবে।
এই প্রকল্প সফল হলে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যয়বহুল নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিবর্তে কম খরচে কম্পিউটিং সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পুরোনো স্মার্টফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা অনেক সময় আধুনিক সার্ভারের কাছাকাছি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৩ সালের গুগল পিক্সেল ফোল্ডের কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষায় এই ফোনের একক-কোর পারফরম্যান্স আধুনিক কিছু সার্ভারের চেয়েও ভালো ফল দেখিয়েছে। গুগল রিসার্চ বলছে, বর্তমান অনেক স্মার্টফোনের একক-কোর পারফরম্যান্স আধুনিক মাল্টিকোর সার্ভারের সঙ্গে তুলনীয়।
বিশ্বজুড়ে দ্রুত স্মার্টফোন পরিবর্তনের কারণে ই-বর্জ্য বাড়ছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী গড়ে প্রায় চার বছর পরপর ফোন পরিবর্তন করেন। এর ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পুরোনো ফোন ফেলে দেওয়া হয়। ফোনে থাকা তামা, রূপা ও অন্যান্য মূল্যবান উপাদান পুনর্ব্যবহার না হলে নতুন করে এসব খনিজ উত্তোলনের প্রয়োজন হয়, যা পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি ফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সঠিকভাবে নিষ্পত্তি না করলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষকদের মতে, পুরোনো ডিভাইসকে নতুন কাজে ব্যবহার করা গেলে একদিকে যেমন ই-বর্জ্য কমবে, অন্যদিকে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে কম খরচে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।


















