অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা, এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের ভেতরে ও বিদেশে অবস্থানকারী সদস্যদের সমন্বয়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে এসব ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।
১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন—রফিকুল ইসলাম (৪৬), মো. সোহেল (৩৭), মো. শফিকুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল মোল্ল্যা (৩৩) ও আইয়ুব হোসেন রিপন (৪৮)।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি বিশেষ দল নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবইসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক অনলাইন মনিটরিং ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে আসছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে এসব সাইটে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার আয়োজন করা হতো। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন চালানো হতো।
এসব সাইটে জুয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হয়। অর্থ জমা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)—বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়—এছাড়া ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বট মানি যুক্ত হতো, যা পরে অনলাইন বেটিং বা জুয়ায় ব্যবহার করা হতো।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য এমএফএস এজেন্ট নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো। সময়ের সঙ্গে এসব নম্বর পরিবর্তন করা হতো। চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত।
পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সংগৃহীত নম্বর ও হিসাবের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হতো। এসব হিসাব ও নম্বর ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করা হতো।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা একত্রিত করত। সেখান থেকে কমিশন রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হতো। পরে এসব অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে দেশের বাইরে পাচার করত চক্রটি।
এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলেও জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।





















