দেশে ডিজিটাল সংযোগ বাড়াতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তাঁর মতে, কম দামের স্মার্টফোনের সঙ্গে সহজ কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসে প্রায় ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা সম্ভব।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
রেহান আসাদ বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ২জি সুবিধার বাটন ফোন। ফলে এত বড়সংখ্যক ব্যবহারকারীকে একসঙ্গে স্মার্টফোনে নিয়ে আসা বাস্তবসম্মত নয়। তবে স্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের সমন্বিত উদ্যোগে ধাপে ধাপে এ পরিবর্তন আনা সম্ভব।
৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন
কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, বাজেট ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়। মোবাইল ফোন নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।
শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির পরিকল্পনা করা হলেও নির্মাতারা জানান, ওই দামে পূর্ণাঙ্গ স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে একটি স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
বিশ্ববাজারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের রিলায়েন্স প্রায় ৩৯ ডলারে একটি কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারজাত করছে। ফোনটির পুরো অংশ টাচস্ক্রিন নয়; প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন এবং বাকি অংশ কিপ্যাড। স্ক্রিনের আকার কমিয়ে ও কিপ্যাড ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬ ডলার কমানো হয়েছে।
বাংলাদেশেও একই ধরনের মডেল অনুসরণ করে কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় উৎপাদনে শুল্ক সুবিধার পরিকল্পনা
রেহান আসাদ বলেন, দেশের মোবাইল ফোন নির্মাতারা প্রায় ৩০ বছর ধরে এ খাতে কাজ করছেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, রিলায়েন্সের মডেল অনুসরণ করলে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব।
কম দামের ফোন উৎপাদন সহজ করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর কর-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, এসব কাঁচামালের ক্ষেত্রে ট্যাক্স, ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক বা ভ্যাট না রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করলে কম দামের স্মার্টফোন উৎপাদন এবং দেশের মানুষের ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর পথে থাকা সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।
কিস্তিতে ফোন কেনার সুবিধার ওপর গুরুত্ব
শুধু কম দামে স্মার্টফোন বাজারে আনাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ কারণে সহজ কিস্তি সুবিধার মাধ্যমে কম আয়ের মানুষের কাছে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে ২জি বা বাটন ফোন ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষ ধীরে ধীরে স্মার্টফোন ও মোবাইল ডাটাভিত্তিক সেবার আওতায় আসতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির এবং এমটব মহাসচিব মো. জুলফিকারসহ খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।





















