২৩ হাজারের বেশি ছবি থেকে সেরা ফটোগ্রাফ বাছাইয়ের কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের চারজন অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার। বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘অপো ফটোগ্রাফি কনটেস্ট ২০২৬’-এ শুধু ছবির কারিগরি মান নয়, বরং গল্প বলার ক্ষমতা, আবেগ, মৌলিকতা ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিচারকেরা।
‘এভরি ফটো টেলস এ স্টোরি’ প্রতিপাদ্যে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অপো। অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি প্রেজেন্টস এই প্রতিযোগিতায় পোর্ট্রেট, নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ, স্ট্রিট অ্যান্ড আর্কিটেকচার, লো লাইট এবং হেরিটেজ অ্যান্ড কালচার—এই পাঁচ বিভাগে ছবি জমা নেওয়া হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় জমা পড়া বিপুলসংখ্যক ছবির মধ্য থেকে সেরাদের বাছাই করতে বিচারকেরা ছবির কম্পোজিশন ও কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি বিষয়বস্তুর উপস্থাপন, সৃজনশীলতা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নিয়েছেন।
পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রধান খন্দকার তানভীর মুরাদ বলেন, সাধারণ মুহূর্তের মধ্যে অসাধারণ কিছু খুঁজে বের করাই ফটোগ্রাফির অন্যতম সৌন্দর্য। তাঁর মতে, একটি সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ দৃশ্যকেও আলাদা মাত্রা দিতে পারে।
ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার শফিকুল আলম কিরণ মনে করেন, একটি ভালো ছবি শুধু কোনো মুহূর্তকে ধরে রাখে না, এর পেছনের আবেগ ও গল্পও তুলে ধরে। স্মার্টফোনকে তিনি বর্তমান সময়ের ফটোগ্রাফারদের জন্য সহজলভ্য একটি সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।
অ্যাওয়ার্ডজয়ী ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার ও ফটোজার্নালিস্ট কে এম আসাদ বলেন, প্রতিযোগিতায় জমা পড়া ছবিগুলোর মান ভালো হওয়ায় সেরাদের বাছাই করা কঠিন ছিল। বিষয়, দৃষ্টিভঙ্গি, কারিগরি দক্ষতা ও গল্প বলার সমন্বয়কে তিনি মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছেন।
অন্য বিচারক রাজোয়ানা চৌধুরী জিনিয়া বলেন, একই পৃথিবীকে ভিন্নভাবে দেখার ক্ষমতাই ফটোগ্রাফির অন্যতম শক্তি। পোর্ট্রেট থেকে শুরু করে স্ট্রিট, ওয়াইল্ডলাইফ, হেরিটেজ ও লো-লাইট—বিভিন্ন বিভাগের ছবিতে সেই বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে নিখুঁত কারিগরি ছবি খুঁজে পাওয়াই একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। বরং এমন ছবি খোঁজা হয়েছে, যা দর্শককে থামিয়ে দেবে, ছবিটির দিকে তাকাতে বাধ্য করবে এবং এর গল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে।
প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ড উইনার পেয়েছেন ১ লাখ টাকা, একটি অপো ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন এবং পাঠশালা থেকে একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। এলিট উইনারের পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও একটি ফটোগ্রাফি কোর্স। মাস্টার উইনার পেয়েছেন ৩০ হাজার টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন ও একটি ফটোগ্রাফি কোর্স।
এ ছাড়া পাঁচটি বিভাগের প্রত্যেক বিজয়ী পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা, একটি অপো স্মার্টফোন এবং পাঠশালার একটি ফটোগ্রাফি কোর্স।
আয়োজকদের মতে, স্মার্টফোন প্রযুক্তির সঙ্গে পেশাদার ফটোগ্রাফি দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ের মাধ্যমে তরুণদের ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।





















