প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুলের ব্যবহার শনাক্ত করা এবং এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমাতে নতুন সেবা চালু করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোস (Sophos)। ‘সফোস এআই ডিফেন্স’ নামের এ সেবা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত এআই টুল শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তানীতি অনুযায়ী সেগুলোর ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।
সফোসের তথ্য অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা আইটি বিভাগের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন এআই টুল ও এআই এজেন্ট ব্যবহার করছেন। এসব টুলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নতুন সেবাটি এ ধরনের ব্যবহার শনাক্ত করে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
ডিভাইস ও নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা একসঙ্গে
সফোস এআই ডিফেন্স সফোস ফিউশন (Sophos Fusion) পরিষেবার মাধ্যমে ডিভাইস, নেটওয়ার্ক, সাইন-ইন এবং ব্রাউজারকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। এর ফলে আলাদা নিরাপত্তা টুল পরিচালনার জটিলতা না বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এআই ব্যবহারের ওপর নজরদারি করা সম্ভব হবে।
সেবাটি এআই টুলে দেওয়া প্রম্পট, ফাইল আপলোড এবং অন্যান্য কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের তথ্য কীভাবে এআই টুলে ব্যবহার হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তানীতি প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
সাইবার হামলায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে
সাইবার অপরাধীরাও বিভিন্ন ধরনের হামলায় এআই ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে সফোস। প্রতিষ্ঠানটির এক্স-অপস (Sophos X-Ops) দলের পর্যবেক্ষণে চলতি বছর এমন এক হামলাকারীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যে একটি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে প্রায় ৮০টি ম্যালওয়্যার মডিউল তৈরি ও পরীক্ষা করেছে।
এ ছাড়া সাইবার অপরাধীদের মধ্যে উন্নত এআই মডেল ব্যবহারের জন্য এপিআই (API) কী কেনাবেচা, অনলাইন ফোরামে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল বিনিময় এবং এআই প্রম্পট তৈরিতে দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রবণতাও দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ধরনের ঘটনা সাইবার হামলায় এআইয়ের অপব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার বাইরে ব্যবহৃত এআই টুল শনাক্ত করার গুরুত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনুমোদনহীন এআই ব্যবহারে উদ্বেগ
সফোসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে তাদের কর্মীরা অনুমতি ছাড়াই এআই এজেন্ট ও টুল ব্যবহার করছেন। গত এক বছরে ৮২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবস্থায় অনুমোদনহীন এআই এজেন্ট শনাক্ত করেছে। এ ধরনের ব্যবহারের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ৯০ শতাংশ আইটি নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এআই এজেন্টের সংখ্যা ১৩০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এআইভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষা এবং অননুমোদিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও বাড়তে পারে।
এআই ব্যবহারে নজরদারি ও তথ্য সুরক্ষা
সফোস এআই ডিফেন্স ডিভাইস, নেটওয়ার্ক, পরিচয় ব্যবস্থাপনা এবং ব্রাউজার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরবে। প্রম্পট, ফাইল আপলোড ও অন্যান্য কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করার মাধ্যমে সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে সেবাটি।
সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাসে চালু হওয়া সফোস এআই ডিফেন্স এখন সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সাইবার অপরাধে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে সফোস এক্স-অপসের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় পাওয়া যাবে।


















