ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে ব্যাটারির সক্ষমতা, ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট এবং প্রসেসিং ক্ষমতার সমন্বয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ওয়ানপ্লাস ১৫। ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ ৭ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি, ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের LTPO AMOLED ডিসপ্লে এবং কোয়ালকমের সর্বাধুনিক ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর।
জিএসএমঅ্যারেনার ল্যাব টেস্ট ও রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও ডিসপ্লের পারফরম্যান্সে ফোনটি বেশ ভালো ফল করেছে। পাশাপাশি রয়েছে ১২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের তিনটি পেছনের ক্যামেরা।
প্রিমিয়াম ডিজাইন ও পানি-ধুলা প্রতিরোধ
ওয়ানপ্লাস ১৫-তে ফ্ল্যাট ও বক্সি ডিজাইনের মেটাল ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে। পেছনের গ্লাস বা ফাইবার প্যানেলের সমন্বয়ে ফোনটিকে প্রিমিয়াম লুক দেওয়া হয়েছে। এতে IP68 ও IP69K রেটিং থাকার কথা বলা হয়েছে, যা ধুলাবালি ও পানি থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি উচ্চচাপের পানির স্প্রে প্রতিরোধেও সক্ষম।
এ ছাড়া ফোনটির কেসিং ও সংযোগব্যবস্থায় ম্যাগনেটিক অ্যাকসেসরিজ এবং চার্জিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৬৫ হার্টজের LTPO AMOLED ডিসপ্লে
ফোনটিতে রয়েছে ৬ দশমিক ৭৮ ইঞ্চির LTPO AMOLED ডিসপ্লে। এর রেজল্যুশন ১ হাজার ২৭২ বাই ২ হাজার ৭৭২ পিক্সেল বা ১.৫কে। সর্বোচ্চ ১৬৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের কারণে স্ক্রলিং, অ্যানিমেশন ও গেমিংয়ে মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়ার কথা।
জিএসএমঅ্যারেনার পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ম্যানুয়াল ব্রাইটনেসে ডিসপ্লেটির উজ্জ্বলতা ৭৮৭ নিটস এবং অটো-ব্রাইটনেসে ১ হাজার ৩৬৪ নিটস পর্যন্ত পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট ১০ শতাংশ ফিল প্যাটার্নে HDR কনটেন্ট প্রদর্শনের সময় সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩ হাজার ৩৯০ নিটস পর্যন্ত উঠেছে।
ডিসপ্লেটিতে Dolby Vision, HDR10+ এবং HDR Vivid সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
৭৩০০ এমএএইচ ব্যাটারি, চার্জ হবে ৪১ মিনিটে
ওয়ানপ্লাস ১৫-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক এর ৭ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। জিএসএমঅ্যারেনার ল্যাব টেস্টে ফোনটির অ্যাকটিভ ইউজ স্কোর পাওয়া গেছে ২৩ ঘণ্টা ৭ মিনিট।
চার্জিংয়ের জন্য রয়েছে ১২০ ওয়াট SuperVOOC প্রযুক্তি। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, চার্জার দিয়ে ১৫ মিনিটে ব্যাটারির ৫০ শতাংশ এবং ৪১ মিনিটে পূর্ণ চার্জ করা সম্ভব। এ ছাড়া ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং ও বাইপাস চার্জিং সুবিধাও রয়েছে।
স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসর
ফোনটিতে কোয়ালকমের ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি Snapdragon 8 Elite Gen 5 চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণ রয়েছে।
বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় AnTuTu v11-এ ফোনটি ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার ২৭৪ পয়েন্টের বেশি স্কোর করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। Geekbench 6-এর মাল্টিকোর পরীক্ষায় স্কোর ১১ হাজার ৬২।
অ্যান্ড্রয়েড ১৬-ভিত্তিক OxygenOS 17 অপারেটিং সিস্টেমে চলা ফোনটিতে ভারী গেমিং ও ভিডিও রেন্ডারিংয়ের সময় তাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা
পেছনে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে OIS-সমর্থিত প্রধান ক্যামেরার সেন্সর ১/১.৫৬ ইঞ্চি। দ্বিতীয়টি ৩.৫ গুণ অপটিক্যাল জুমের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা এবং তৃতীয়টি আল্ট্রা-ওয়াইড সেন্সর। সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।
জিএসএমঅ্যারেনার মূল্যায়নে, প্রধান ক্যামেরা ও ৩.৫ গুণ জুমের টেলিফটো লেন্সে ভালো মানের ও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। তবে ম্যাক্রো বা খুব কাছ থেকে ছবি তোলার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থাৎ ক্যামেরা বিভাগে উন্নত হার্ডওয়্যার থাকলেও আগের প্রজন্মের তুলনায় বড় ধরনের অগ্রগতি নেই বলে রিভিউয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
স্টেরিও স্পিকারের শব্দ কেমন?
ফোনটিতে স্টেরিও স্পিকার রয়েছে। জিএসএমঅ্যারেনার অডিও পরীক্ষায় এর লাউডনেস স্কোর -২৪ দশমিক ৮ LUFS, যা তাদের মূল্যায়নে ‘ভেরি গুড’ শ্রেণিতে পড়েছে।
ওয়ানপ্লাস ১৫-এর ভালো ও খারাপ দিক
জিএসএমঅ্যারেনার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফোনটির প্রধান শক্তি বড় ব্যাটারি, দীর্ঘ ব্যাকআপ, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, শক্তিশালী প্রসেসর এবং পানি-ধুলা প্রতিরোধী সক্ষমতা। অন্যদিকে ক্যামেরায় বড় ধরনের প্রজন্মগত উন্নতি না থাকা, টেলিফটো ক্যামেরায় ক্লোজ-আপ ফোকাসের সীমাবদ্ধতা এবং তুলনামূলক কম উজ্জ্বল ফ্ল্যাশলাইট এর দুর্বল দিক।
সব মিলিয়ে, গেমিং, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং দ্রুতগতির পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়ানপ্লাস ১৫ আকর্ষণীয় ফ্ল্যাগশিপ হতে পারে। তবে ক্যামেরায় বড় ধরনের আপগ্রেড প্রত্যাশীদের কেনার আগে এর সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত।






















