দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি এবং তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবির বিরুদ্ধে আসা সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ও পরিচালক আবুল কালাম জানান, আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই এই অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
তদন্তের অন্যতম প্রধান দিক হলো ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছরের হিসাব বিবরণী। অভিযোগ উঠেছে, রবি তাদের অপারেটিং ব্যয়কে (OpEx) মূলধনী ব্যয় (CapEx) হিসেবে দেখিয়ে প্রকৃত খরচ গোপন বা ‘মাস্কিং’ করেছে। এর ফলে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স কৃত্রিমভাবে ভালো দেখানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। এই প্রক্রিয়ায় সিইও, সিএফও এবং অডিট কমিটির কোনো যোগসাজশ ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
রবির চেয়ারম্যান থায়াপারান এস সাঙ্গারা পিল্লাইয়ের দ্বৈত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তিনি একইসঙ্গে রবির চেয়ারম্যান এবং টাওয়ার কোম্পানি ইডটকো (EDOTCO)-এর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রবি ও ইডটকোর মধ্যে হওয়া ইজারা চুক্তি, অবকাঠামো শেয়ারিং এবং শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ‘ভ্যালু লিকেজ’ বা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
রবির করপোরেট সুশাসন নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। স্বতন্ত্র পরিচালক আখতার সানজিদা কাশেম এবং কামরান বকর বোর্ড সভায় ‘অযাচিত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছিলেন। তাদের এই পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এবং বোর্ডের নিরপেক্ষতা নিয়ে অনুসন্ধান করবে বিএসইসি।
গত এজিএম-এ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আইনি লড়াইয়ের খরচ এবং ফরেনসিক অডিট ফি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তার সদুত্তর দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বার্ষিক প্রতিবেদনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার বিষয়টিও তদন্তাধীন।
তদন্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রবির শেয়ারের দর ২.৪০% কমে ২৮.৫০ টাকায় নেমে আসে।
বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী, সহকারী পরিচালক তন্ময় কুমার ঘোষ এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালে রবি ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করে ১৭.৫% লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও, ২০২১-২২ সালের পুরনো হিসাবের গরমিল এখন কোম্পানিটিকে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।



















