শের সাধারণ মোবাইল গ্রাহক ও টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ওপর উৎসে কর হ্রাস এবং বিটিআরসি’র রাজস্বের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করায় দেশে মোবাইল কলরেট ও ডেটার মূল্য কমার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিকম খাতকে চাঙা করতে এই বিশেষ নীতিগত ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মোবাইল সেবায় উৎসে কর হ্রাস
বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) এবং মোবাইল খাতকে একটি উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বড় ধরনের ট্যাক্স ও ভ্যাট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাখাতে বিদ্যমান উৎসে কর (Withholding Tax) কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মোবাইল অপারেটরদের পরিচালন ব্যয় কমবে, যার সরাসরি সুফল কলরেট হ্রাসের মাধ্যমে সাধারণ কাস্টমাররা পেতে পারেন।
বিটিআরসি’র ২০% উৎসে কর প্রত্যাহার
টেলিকম খাতের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবারের বাজেটে আরেকটি বড় সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে যে রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা নানাবিধ চার্জ পেয়ে থাকে, তার ওপর প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে আমাদের টেলিকম খাতে মোট করের বোঝা প্রায় ৫০ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে আমরা কর কাঠামো যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছি।”
৩০০ টাকার ‘সিম ট্যাক্স’ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত
কলরেট ও নেটওয়ার্ক ট্যাক্স কমানোর পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ৩০০ টাকার ‘সিম ট্যাক্স’ (SIM Tax) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নতুন সিম বা ই-সিম (e-SIM) ক্রয়ের ক্ষেত্রে আর কোনো ফিক্সড ট্যাক্স দিতে হবে না। তবে এর পরিবর্তে সিমের মূল সরবরাহ মূল্যের ওপর সাধারণ ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রযোজ্য হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে নতুন সিমের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।




















