জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি মোবাইল নম্বর পুনরায় সচল করতে গিয়ে প্রায় সাড়ে সাত মাস ধরে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক গ্রাহক। এ সময় দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি), রবি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মো. জাহিদুল ইসলাম জনি শেরপুরের নকলা উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
কীভাবে শুরু হয় জটিলতা
জাহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তাঁর এনআইডিতে ১০টির বেশি সিম নিবন্ধিত থাকায় বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহৃত একটি এমএনপি (Mobile Number Portability) নম্বর বন্ধ হয়ে যায়। নম্বরটি মূলত গ্রামীণফোনের হলেও সেটি রবি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
পরে অতিরিক্ত নিবন্ধিত সিম বাতিল করে সংখ্যা পাঁচে নামিয়ে আনলেও নম্বরটি পুনরায় চালু করতে গিয়ে নতুন জটিলতার মুখে পড়েন তিনি।
রবির সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এমএনপি নম্বর হওয়ায় তারা এটি পুনরায় চালু করতে পারবে না। অন্যদিকে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নম্বরটি বন্ধ হওয়ার সময় রবির নেটওয়ার্কে থাকায় তাদের কিছু করার নেই।
বিটিআরসিতে আবেদন, তবুও সমাধান হয়নি
সমাধানের আশায় বিটিআরসির হেল্পলাইন ১০০-তে যোগাযোগ করলে তাঁকে লিখিত আবেদন করতে বলা হয়। পরে ৮ জানুয়ারি শেরপুর থেকে ঢাকায় এসে বিটিআরসি কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণ ও আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক মাসেও নম্বরটি সচল হয়নি।
এমএনপি নম্বর রি-ইস্যু হলেও তৈরি হয় নতুন সমস্যা
পরবর্তীতে বিটিআরসির নির্দেশে রবি তাদের সার্ভার থেকে নম্বরটি মুক্ত করে এবং গ্রামীণফোনকে পুনরায় (রি-ইস্যু) সিম দেওয়ার অনুমতি দেয়।
গ্রাহক জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর গ্রামীণফোন থেকে নতুন সিম তুলতে সক্ষম হলেও সেটিতে শুধু আউটগোয়িং কল ও রিচার্জ কাজ করছিল। কিন্তু ইনকামিং কল, এসএমএস এবং ওটিপি সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে বারবার জানানো হচ্ছিল, নম্বরটি ব্যবহৃত হচ্ছে না।
প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ
প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গ্রামীণফোনে সিম পুনরায় ইস্যু করা হলেও কেন্দ্রীয় এমএনপি ক্লিয়ারিং হাউজ এবং রবির রাউটিং ডাটাবেজে নম্বরটির তথ্য পুরোপুরি হালনাগাদ হয়নি। ফলে ইনকামিং কল ও এসএমএস পূর্বের অপারেটরের দিকেই রাউট হতে থাকে।
এ সময় গ্রাহকের অভিযোগ, জিপি ও রবি উভয় প্রতিষ্ঠানই দায় একে অপরের ওপর চাপিয়ে দেয়।
অভিযোগের পর মেলে সমাধান
ভোগান্তির একপর্যায়ে তিনি সরকারি অভিযোগ ব্যবস্থাপনা (GRS) প্ল্যাটফর্মে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও লিখিত অভিযোগ পাঠান।
পরে টেলিযোগাযোগ খাতের এক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কারিগরি টিম সার্ভারের ডাটাবেজ হালনাগাদ করলে নম্বরটির ইনকামিং সেবা চালু হয় বলে দাবি করেন তিনি।
গ্রাহকের প্রশ্ন
পুরো ঘটনার পর কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন জাহিদুল ইসলাম জনি—
বিটিআরসির নির্দেশনা থাকার পরও একটি নম্বর সচল করতে কেন সাড়ে সাত মাস সময় লাগল?
এমএনপি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়েই কীভাবে নতুন সিম ইস্যু করা হলো?
দুই অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেখানে দীর্ঘ সময়েও সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, সেখানে কারিগরি পর্যায়ে অল্প সময়েই কীভাবে সমাধান সম্ভব হলো?
জবাবদিহিতার দাবি
টেলিযোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, এমএনপি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে গ্রাহকসেবায় সমন্বয়ের অভাব, দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থার অভাব থাকলে সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয়।





















