যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার মধ্যেই মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, এই চিপগুলোতে ‘ব্যাকডোর’ রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই দূর থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ এমনকি বন্ধও করে দেওয়া সম্ভব।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির সঙ্গে যুক্ত উইচ্যাট অ্যাকাউন্ট ‘ইউইউয়ান তানতিয়ান’ রোববার এক নিবন্ধে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। নিবন্ধে বিশেষভাবে এনভিডিয়ার এইচ২০ (H20) চিপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই চিপগুলো প্রযুক্তিগতভাবে খুব উন্নত নয় এবং পরিবেশবান্ধবও নয়।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, “যখন কোনো চিপ পরিবেশবান্ধব, উন্নত বা নিরাপদ নয়, তখন ভোক্তা হিসেবে আমাদের অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রয়েছে।”
এই বিষয়ে এনভিডিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে গত ৩১ জুলাই চীনের সাইবারস্পেস নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনভিডিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে। সেখানে নিয়ন্ত্রকরা জানতে চেয়েছিলেন, এইচ২০ চিপে এমন কোনো ‘ব্যাকডোর’ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, যা দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
বৈঠকে এনভিডিয়ার প্রতিনিধিরা জানান, তাদের পণ্যে এমন কোনো ‘ব্যাকডোর’ নেই যা দূর থেকে সিস্টেমে প্রবেশ বা তা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দেবে।
কিন্তু এনভিডিয়ার এই আশ্বাসের পরও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো তাদের চিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রেখেছে। ইউইউয়ান তানতিয়ানের নিবন্ধে সরাসরি দাবি করা হয়, এনভিডিয়ার চিপে থাকা হার্ডওয়্যার ‘ব্যাকডোর’ ব্যবহার করে দূর থেকে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় দেশটির আরেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘পিপলস ডেইলি’র একটি মন্তব্যের পর। চলতি মাসের শুরুতে পিপলস ডেইলি এক প্রতিবেদনে বলে, এনভিডিয়াকে অবশ্যই তাদের চিপের নিরাপত্তা নিয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ উপস্থাপন করতে হবে, যাতে চীনা ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ দূর হয় এবং বাজারে আস্থা ফিরে আসে।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর উন্নত চিপ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর, এনভিডিয়া বিশেষভাবে চীনের বাজারের জন্য এইচ২০ চিপটি তৈরি করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রথমে এই চিপের বিক্রি নিষিদ্ধ করলেও, গত জুলাই মাসে বাণিজ্য আলোচনা চলমান থাকায় সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন চীন নিজেই এই চিপের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হলো।






















