বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি (BTRC) একটি নতুন এবং কঠোর কোয়ালিটি অফ সার্ভিস (QoS) নীতিমালা অনুমোদন করেছে। মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন, এবং আইএসপি সেবাদাতাদের জন্য এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকে, যার মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা।
কী কী পরিবর্তন আসছে?
১. ডেটা গতি ও কলড্রপ:
৪জি’র সর্বনিম্ন গতি ১০ এমবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে ড্রাইভ টেস্টের জন্য।
কলড্রপের হার ২জি নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ১% এবং ৪জি নেটওয়ার্কে ২% (ড্রাইভ টেস্টে) রাখা হয়েছে।
গ্রাহকের জন্য গড় ডাউনলোড গতি নেটওয়ার্ক পর্যায়ে ৩.৫ এমবিপিএস এবং জেলা পর্যায়ে ২.৫ এমবিপিএস হতে হবে।
২. কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা:
এখন থেকে অপারেটরদের প্রতি মাসে তাদের নেটওয়ার্কের মান সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিটিআরসি-তে জমা দিতে হবে।
এই প্রতিবেদনে অ্যাক্সেসিবিলিটি (নেটওয়ার্কে প্রবেশ ও কল সেটআপ), রিটেইনেবিলিটি (সংযোগ ধরে রাখা), এবং নেটওয়ার্ক ইন্টিগ্রিটি এই তিনটি প্রধান সূচকের বিস্তারিত তথ্য থাকবে।
সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করা ৫০টি সেলের তালিকাও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে দুর্বল এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়।
৩. ফিক্সড ইন্টারনেট ও অন্যান্য সেবা:
ফিক্সড টেলিফোন সেবায় কলড্রপের হার ১% এবং কল সংযোগ সময় সর্বোচ্চ ৬ সেকেন্ড হতে হবে।
ফিক্সড ইন্টারনেট সেবায় গ্রাহকের সাবস্ক্রাইব করা গতির কমপক্ষে ৯৫% নিশ্চিত করতে হবে।
এনটিটিএন অপারেটরদের মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং গ্রামীণ এলাকায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
৪. গ্রাহক অভিযোগ সমাধান:
নেটওয়ার্ক-বহির্ভূত অভিযোগ ২৮ দিনের মধ্যে সমাধান করতে হবে।
গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে আসা ৯০% কল ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে এবং সব কল ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে রিসিভ করা বাধ্যতামূলক।
এই নতুন নীতিমালাকে সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত বলে উল্লেখ করেছে বিটিআরসি। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতে সেবাদাতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকরা উন্নত ও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।





















